পশ্চিম তীরের ‘ইয়া’বাদ’ শহর টানা ৫ দিন অবরোধ করে রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


ধারাবাহিকভাবে পঞ্চম দিনের মতো অধিষ্ঠিত পশ্চিম তীরের উত্তরে ‘ইয়া’বাদ’ শহরটি অবরোধ করে রেখেছে ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী।বৈশ্বিক মহামারী ভাইরাস কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের মাঝেই তারা কঠোর অবরোধ আরোপ করে সাধারণ অসহায় ফিলিস্তিনিদের জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। শুধু তাই নয় এই কড়া অবরোধে তারা প্রতিনিয়ত ঘরবাড়িতে লুটপাট ও আক্রমণ চালাচ্ছে এবং কোনো কারণ ছাড়াই লোকজনকে বন্দী করে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত এই ইহুদীবাদী হানাদার বাহিনী গভীর রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে লুটতরাজ ও সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বন্দী করে নিয়ে যাচ্ছে।

এই ইহুদীবাদী হানাদার বাহিনী শহরটির প্রবেশ মুখে মাটির টিলা ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা বাধ দিয়ে গ্রামটির প্রবেশ পথ ঘেরাও এবং বন্ধ করে রেখেছে যার ফলে তারা তাদের প্রধান প্রতিবেশী জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন। লোকজন গ্রামে প্রবেশ করতে বা বের হতে বিকল্প পথ হিসেবে কৃষিক্ষেত্রের সরু খাল ব্যবহার করলেও সেই ইহুদীবাদী হানাদার বাহিনীর আক্রমণ থেকে নিস্তার পাচ্ছে না যারা গ্রামটিকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে।

ফিলিস্তিনি শিশু, মহিলা এবং প্রবীণসহ অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারকেই নিজেদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে তাদের অনেককেই আবার মুক্তি দিয়েছে ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী। আবার মাঝরাতে অনেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোনো কারণ না দর্শিয়েই ইহুদীবাদী সৈন্যরা আক্রমণ করে বসে। শুধু তাই নয় তারা তাদেরকে এমনভাবে মারধর করে যে মারধরের কারণে অনেককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়।

রাতে অভিযানের সময় যখন উপর থেকে পাথর ফেলে একজন ইহুদীবাদী ইসরাইলী সেনাকে হত্যা করা হয় মূলত তখন থেকেই এই শহরে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাবাহিনী।

ইয়া’বাদ শহরের ‘ইমান নাজমী’ নামে একজন মহিলা যাকে দু’দিন আগে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আটক করা হয়েছিল এবং শনিবার (১৬ মে) সকালে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তিনি তার মুক্তির পর ডাব্লিউএএফএকে বলেছেন যে ইহুদীবাদী ইসরাইলী সেনারা তাকে নিকটবর্তী অবৈধ বসতি মেভো দোথনে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে তাকে একজন ইসরাইলী গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন যিনি তার সাথে অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন, তার সাথে অশোভন আচরণ করেছেন এবং তাকে মিথ্যা অপরাধের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করতে মারাত্মক ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শনিবার (১৬ মে) সকালে তাকে মুক্তি দেওয়ার পরপরই একজন ইসরাইলি সেনা তার মায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার মাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

ইয়া’বাদের পার্শ্ববর্তী সালামা অঞ্চল যেখানে মাথায় পাথর ফেলে ইহুদীবাদী ইসরাইলী একজন সেনাকে হত্যা করা হয়েছিল তার বাসিন্দারা জানান যে তারা গত পাঁচ দিন যাবত ইহুদীবাদী সেনা কর্তৃক তাদের প্রতিবেশী এলাকায় অভিযান, তাদের বাড়িতে হামলা এবং তাদের ছাদে আরোহণ করার বিষয়টি দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পরেছেন।

ইহুদিবাদী ইসরাইলী বাহিনী মঙ্গলবার (১২ মে) থেকে শহরটিতে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান চলাকালীন তারা কয়েকজন বাসিন্দাকে তাদের পুরো পরিবার সহ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় এবং ফিলিস্তিনি জনসাধারণের বাড়িতে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এমনকি ইহুদীবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সম্মিলিত শাস্তি নীতির অংশ হিসাবে তারা ফিলিস্তিনিদের উপর সরাসরি গুলি ব্যবহার করছে। এই পর্যন্ত দু’জন মহিলা এবং ছয় শিশু সহ কমপক্ষে ৩৪ জন বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।