মুসলমানদের দমন বাড়াতে করোনাকে ব্যবহার করছে ভারত: অরুন্ধতী রায়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম। নিজস্ব প্রতিনিধি


রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায় অভিযোগ করে বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারিকে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে কাজে লাগাচ্ছে ভারত সরকার৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ভারতের জাতীয়তাবাদী সরকার এই কৌশল ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে নিখুঁতভাবে এমন কিছু করতে যাচ্ছে যার প্রতি বিশ্বের নজর রাখা উচিত৷ হিন্দুপ্রধান দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ‘গণহত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

তিনি বলেন, আমি মনে করি কোভিড-১৯ ভারতের এমন কিছু বিষয় ফুটিয়ে তুলেছে যা আমরা সবাই আগে থেকেই জানতাম৷ আমরা ভুগছি, তবে শুধু কোভিডে নয়, ঘৃণা থেকে সৃষ্ট সংকট, ক্ষুধা থেকে সৃষ্ট সংকটেও৷

ভারতের ১৩০ কোটি মানুষ বর্তমানে ছয় সপ্তাহের লকডাউনে রয়েছে৷ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দেশটিতে জন হপকিন্স ইন্সটিটিউটের হিসেবে সোমবার অবধি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৩,৮৩৫ জন, আর মারা গেছেন ৪৫২ জন৷

ভারত সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত অরুন্ধতী রায় বলেন, মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ সংক্রান্ত সংকটের পেছনে রয়েছে দিল্লিতে এক নির্বিচারে হত্যার ঘটনা, যা দেশটিতে মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের সময় ঘটেছিল৷ কোভিড-১৯-এর আড়ালে ভারত সরকার আইনজীবী, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা লড়ায় তরুণ শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করছে৷

রায় দাবি করেছেন যে, ভারত সরকার এমন এক কৌশলের জন্য ভাইরাসটির অপব্যবহার করছে যা গণহত্যার সময় নাৎসিদের ব্যবহৃত কৌশলগুলোর একটির কথা মনে করিয়ে দেয়৷ তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ (আরএসএস) হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মাদারশিপ, যেটি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, ভারতের হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া উচিত৷ এটির ভাবাদর্শে ভারতের মুসলমানদের সঙ্গে জার্মানির ইহুদিদের তুলনা করা হয়৷ আপনি যদি তারা কিভাবে কোভিডকে ব্যবহার করছে সেদিকে তাকান, তাহলে দেখবেন এটা অনেকটা ইহুদিদের যেভাবে আলাদা করতে, কলঙ্কিত করতে টাইফুসকে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেরকম৷

-ডয়চে ভেলে