ইংরেজি, আরবি, ফরাসিসহ বহু ভাষায় করোনা সতর্কতা

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদে অবস্থিত দি ইংলিশ অ্যান্ড ফরেন ল্যাংগুয়েজেস ইউনিভার্সিটির (ইফলু-ইংরেজি ও বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়) কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালনায় বিশ্বের প্রধানতম কিছু ভাষায় করোনা সতর্কতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে। শারীরিক দূরত্ব ও হাত ধোয়ার ওপর পৃথক দুটি ভিডিও দশটি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করেছে। ইংরেজি, আরবি, ফরাসি (ফ্রেঞ্চ), জার্মান, জাপানিজ, চীনা, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, হিন্দি ও তেলুগু ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব বিষয়ক ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত কিছু শিক্ষার্থী ও জাপানিজ ভাষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিক শেখের অংশগ্রহণে শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে বেশ উৎসাহিত। তারা গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষকদের এমন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জনিয়েছে। ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষণ বিষয়ে স্নাতকোত্তরের ছাত্র মুনায়েম হোসাইন জানান, “ই.এফ.এল বিশ্ববিদ্যালয় বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা নির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয়, এটিই তার প্রমাণ।” ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত জানান, “ই.এফ.এল. বিশ্ববিদ্যালয় করোনা পরিস্থিতিতে শুধু এটিই নয়, আরও বিভিন্ন সামাজিক সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, “হিন্দি ও তেলুগুর পাশাপাশি মারাঠি ভাষায়ও ভিডিওটি প্রচার হওয়া দরকার ছিল। মহারাষ্ট্রের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এতে সর্বস্তরের জনগণের নিকট পৌঁছাতে পারত। কজন সাধারণ মানুষ আর ইউরোপ ও এশিয়ার এ ভাষাগুলোয় পারদর্শী?” তবে ভাষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভাষা নিয়েও সুন্দর একটি উপস্থাপনা করেছে বলে তিনি মনে করেন। ফরাসি ভাষায় স্নাতকোত্তর করছেন সৌম্য। তিনি মনে করেন ‘এর দ্বারা সতর্কতার চেয়ে ভাষার ওপর কিংবা ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সামাজিক ও বৈশ্বিক সার্বিকভাবে ভাষার শিক্ষার্থীদের তৈরি করে তোলার একটি ব্যাপার এখানে রয়েছে। আর সতর্কতার জন্য করা হলে হিন্দি ও তেলুগু ছাড়াও অন্যান্য স্থানীয় ভাষায় ভিডিও বের করলে ব্যাপারটি আরও বেশি উপযোগী হতো।’

ই.এফ.এল. বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি শুধু ভাষার জন্য প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরেশ কুমারের পরিকল্পনায় প্রধান পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষয়িত্রী ড. সুজাতা মুখরি।