দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৪তম, ভারত এবং মিয়ানমারের থেকেও অনেক খারাপ অবস্থা দেশের: টিআইবি

জানুয়ারি ২৩, ২০২০ । নিজস্ব প্রতিনিধি



দুর্নীতির ধারণা সূচক বা করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (সিপিআই) অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর অপরিবর্তিত। তবে এক ধাপ এগিয়েছে। ১৩ থেকে ১৪তম অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ। ১০০ নম্বরের মানদণ্ডে এবার (২০১৯) বাংলাদেশের স্কোর ২৬। এর আগে ২০১৮ সালেও একই স্কোর ছিল।

তবে দুই প্রতিবেশী ভারত এবং মিয়ানমারের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। টিআই’র সূচকে ভারতের স্কোর ৪১। অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে নিম্ন ক্রম অনুয়ায়ী অবস্থান ৮৭তম। অন্যদিকে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে নিম্নক্রম থেকে মিয়ানমারের অবস্থান ৫০তম।

বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের ২০১৯ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

টিআই প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিআই-২০১৯ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ তালিকার সর্বনিম্ন থেকে গণনা ও স্কোর অনুযায়ী ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে; যা সিপিআই ২০১৮ থেকে এগিয়েছে। সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৪৬তম; এখানে গত বছরের তুলনায় ৩ ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের।

এশিয়া প্যাসিফিকের ৩১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্ন থেকে গণনা অনুযায়ী আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। টিআইবির করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স-২০১৯ এ দেশটি ৯ পয়েন্ট নিয়ে ঊর্ধ্বক্রম থেকে ১৮০ এবং নিম্নক্রম থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। আর নিম্নক্রম থেকে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম।

সোমালিয়ার পর নিম্নক্রম থেকে ১২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ সুদান, ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে সিরিয়া, ১৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ইয়েমেন, ১৬ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে ভেনিজুয়েলা, ১৬ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে সুদান, একই স্কোর নিয়ে সপ্তম অবস্থানে ইকুয়াটরিয়াল গুয়েনা, ১৬ স্কোর নিয়ে অফগানিস্তান অষ্টম, ১৭ স্কোর নিয়ে কোরিয়া (উত্তর) নবম, ১৮ স্কোর নিয়ে লিবিয়া দশম স্থানে রয়েছে। ১৮ স্কোর নিয়ে লিবিয়ার পর যথাক্রমে রয়েছে হাইতি, গুয়েনা বিসাও ও কঙ্গো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। ২৬ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইরান, মুজাম্বিক ও নাইজেরিয়া। ২০১৮ সালে নিম্নক্রম থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় আফগানিস্তানে। তাদের স্কোর ১৬। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।

সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তুলনায় অন্য যেসব দেশ খারাপ অবস্থানে আছে তাদের বেশিরভাগ যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির ধারণা সূচকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্কোর নিয়ে আগের অবস্থানে রয়েছে। তবে র‌্যাকিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।