অবৈধ শাসন পাকাপোক্ত রাখতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করছে সরকার: ফখরুল

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সরকার গোপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন তথ্য গোপন করলো? এর একটাই উদ্দেশ্য, গোটাজাতিকে অন্ধকারে রেখে তাদের অবৈধ শাসন পাকাপোক্ত রাখতে চায়। আমরা মনে করি, সরকার অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। এই অপরাধের জন্য তাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

শনিবার (২১ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিং করে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জনগণের সাথে সম্পূর্ণরূপে প্রতারণা ও বিভ্রান্ত করেছে। তারা মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা শুধুমাত্র আইইডিসিআরের মাধ্যমে তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন অনলাইন, পরিচিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে শুনতে পাচ্ছি যে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, যেসব দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি, সেসব দেশ থেকে যারা আসছেন তাদেরকে পরীক্ষা করা জরুরি ছিল। বিমানবন্দর, স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর দিয়ে যারা এলেন সেই যাত্রীদের পরীক্ষা বেশি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অপ্রতুল ছিল। কারণ একটিমাত্র স্কানিং মেশিন ছিল ঢাকা বিমানবন্দরে। চট্টগ্রামে আছে বলে জানা নেই। ইতোমধ্যে রিপোর্ট এসেছে গত ৫৫ দিনে প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার বিদেশি দেশে এসেছে। এরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এদের মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়ার অবস্থা ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের ওপরে মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক। এটা এমন একটা ভাইরাস যে গোটা পৃথিবী অসহায় বোধ করছে। গোটা পৃথিবীর নেতা-রাজারা পর্যন্ত অসহায় বোধ করছেন। যে ট্রাম্প কয়েকদিন আগেও অনেক অবজ্ঞার সুরে কথাবার্থা বলেছেন। তাকে গোটা জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনলাম, সবাই সাবধান হও। আমরা ফাইট করব। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটা দেশ। এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে তাতে একটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এটা যদি বন্ধ করা না যায় তাহলে সমাজে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েব। আমরা এখানে সরকারের সীমাহীন অবহেলা দায়িত্বহীনতা দেখতে পারছি। জনগণের প্রতি তাদের দায়-দায়িত্ব কতটুকু তা মন্ত্রীদের কথাবার্তাই বোঝা যায়।