নিষেধাজ্ঞা ভেঙে নৌপথে গতকাল গিয়েছে ৫০ হাজার যাত্রী

দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট। করোনা সংক্রমণরোধে এই নৌরুটে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা ভেঙে প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী পারাপার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ও ফেরিতে করে পদ্মা পার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিআইডাব্লিউটিসি ও বিআইডাব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষণিক নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্তে ঘাটে যাত্রীদের এমন উপচেপড়া ভিড় বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৮টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

এদিকে করোনা সংক্রমণরোধে স্পিডবোট, লঞ্চ ও ফেরিতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে ঘাটের অনেক কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, শিমুলিয়া ঘাটের অবস্থা খুব খারাপ, মানুষ আর মানুষ। সব যাত্রীরা এখন ফেরিতে পার হচ্ছেন। কোনো পুলিশ সদস্য লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করেনি। এখানে তো কঠিন সিচুয়েশন, যে যেভাবে পারছে সেভাবেই ঘাট পার হয়েছে। বিআইডাব্লিটিএর উচিত ছিল আগের দিন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাহলে ঢাকা থেকে এত মানুষ ঘাটে আসতো না। এখন ঘাটে যে মানুষ এসেছে তা কিভাবে পার হবে। চোখে না দেখলে এই অবস্থা বুঝবার ক্ষমতা নেই। মানুষ জীবনের দিকে তাকাচ্ছে না, কিভাবে পদ্মা পার হবে সেদিকে নজর। ঘাটের কর্মকর্তা কই, তারা তো কেউ নাই ঘাটে, একজন কর্মকর্তাও তো ঘাটে নেই। তাদেরও দায়িত্ব থাকে ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার। যাত্রীদের ভিড় দেখে বিআইডাব্লিউটিসি ও বিআইডাব্লিউটিএর কেউই ঘাটে নেই। এখন শুধু পুলিশ ঘাট দেখছে। আমরাই এখন ঘাট দেখছি।

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিটিএর পোর্ট অফিসার শাহ-আলম জানান, পুলিশ সদস্যরা আমাদের বাধ্য করেছে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৮টি লঞ্চ ছাড়ার জন্য। দেশের এরকম পরিস্থিতি কেন তারা এই কাজটি করেছে তা জানা নেই। তবে তারা সঠিক কাজ করেনি। পুলিশ সদস্যদের নিষেধ করা হয়েছিল কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথাই শুনেননি। এখনো ঘাটে অনেক যাত্রীর চাপ।

শিমুলিয়া বিআইডাব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহ্দাত হোসেন বলেন, যাত্রীদের চাপ বেশি দেখে পুলিশ সদস্যরা লঞ্চের স্টাফদের কিছুটা ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে যেতে বলেছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেই। নির্দেশনা পেয়ে লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছিলাম কিন্তু পুলিশ সদস্যদের এই কর্মকাণ্ডে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যেখানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় অর্ডার দিয়েছে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করার সেখানে পুলিশ সদস্যরা স্বেচ্ছায় এ কাজটি করেছে যা সাংঘর্ষিক। পুলিশ সদস্যরা বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে কেন প্রেসার দেবে। এখনো কেউ কেউ ট্রলার, স্পিডবোট ভাড়া করে চলাচল করছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুলিশ সদস্যরা আমাদের সাড়ে ৩টার পর থেকে লঞ্চ ছাড়ার জন্য বাধ্য করে। ৮টি লঞ্চ ছাড়ার পর আর লঞ্চ চলেনি।

তিনি আরও বলেন, আনুমানিক প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী সারাদিনে পার হয়েছে।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কর্মকর্তা সিরাজুল কবীর জানান, লোকে লোকারণ্য শিমুলিয়া ঘাট। জোয়ারের মতো মানুষ আসছে ঘাটে। তিন নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে একটি ফেরি চলছে, যা মানুষ পার করছে। তবে সন্ধ্যার পর কি হয় তা বলা যাচ্ছে না। কিছু নৌযান চোরাই পথে চলছে তা বন্ধের চেষ্টা করছি। লৌহজং থানা পুলিশ বেশি যাত্রীর চাপ দেখে লঞ্চ ছাড়তে বলেছে। তবে লঞ্চঘাটের সামনে একটি চরে ভিড়ানো লঞ্চগুলো দিয়ে তারা যাত্রী পার করতে বলে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এই ছুটি দেওয়া হয়েছিল ঘরে থাকার জন্য। কিন্তু যেই উদ্দেশে নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষ তা মানছেন না।