সবাই অতিরিক্ত পণ্য কিনছে, প্রধানমন্ত্রী-বাণিজ্যমন্ত্রী কারো আহ্বান কেউ শুনছে না

অহেতুক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন না। চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজার অস্থির না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণিজ্যমন্ত্রীও একই সুরে বলেছেন। তবে তাদের এ আহ্বান কেউ শুনছে না।

সাধারণ ব্যবসায়ীসহ সুপারমার্কেট অ্যাসোসিয়েশন নেতারা আশ্বস্ত করে বলেছেন, পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত আছে, অতিরিক্ত পণ্য কিনে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে এই আহ্বান, অনুরোধ বা পরামর্শ কাজে আসছে না। সম্ভাব্য লকডাউন আতঙ্কে চাহিদার কয়েকগুণ বেশি চাল, ডাল, তেল, লবণ, পেঁয়াজ, চিনি, শিশুখাদ্যসহডায়াপার ওজীবাণুনাশক কিনছেন সাধারণ মানুষ। এরপ্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশেরবাজারে। এই সুযোগে জিনিসপত্রের বাড়তি দাম নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন। অনেক দেশ থেকে ফ্লাইট আসা-যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে। স্থলবন্দরগুলোয়ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম। ইতোমধ্যে দেশের একটি অঞ্চল লকডাউন করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরধারণা, যেকোনও সময় দেশের আরও অঞ্চল হয়তো লকডাউন করা হবে। বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যোগাযোগব্যবস্থাও। স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে, বিমান রুট বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্যপণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাড়তে পারে পণ্যের দাম। এমন আশঙ্কা থেকে তারা আগামী কয়েক মাসের জন্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ করছেন।

তবে সরকারবলছে, এমন পরিস্থিতি হওয়ার সুযোগ নেই। বাজারে পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। প্রয়োজনে এমন পরিস্থিতিতে টিসিবিকে কাজে লাগানো হবে। তেমন প্রস্তুতিও রয়েছে।

তবে সরকারের এ কথা আমলে নিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য, সরকারের লোকজন সবসময়ই এ ধরনের কথা বলে, পরে যা হওয়ার তা-ই হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করেন। সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে পরে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।