সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

শরিয়াহ সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, তারাই নতুন আইন নিয়ে সমালোচনা করছে: আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদনের প্রসঙ্গে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, বিচারকদের কার্যপ্রণালি স্পষ্ট করা এবং মামলার নিষ্পত্তি সহজ করার লক্ষ্যেই এই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন দণ্ডবিধিটি আগের তুলনায় আরও পরিপূর্ণ ও বাস্তবমুখী, যা বিচারিক কার্যক্রমকে আরও স্পষ্টভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি করবে। এ বিষয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তার বড় অংশই আসছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যাদের ইসলামী শরিয়াহ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেই অথবা যারা বাইরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে প্রভাবিত।

আফগান গণমাধ্যম তোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মুজাহিদ বলেন, “আগেও একটি দণ্ডবিধি ছিল, তবে সেটি ছিল সাধারণ ধরনের। নতুন দণ্ডবিধিটি আরও স্পষ্ট, বিস্তারিত ও সহজভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বিচারকরা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মামলার খুঁটিনাটি বিষয় নিষ্পত্তি করতে পারেন।”

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, গত চার দশকে আফগান জনগণ বিভিন্ন ধরনের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেছে। তবে যেসব সরকারকে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো দেশটিতে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন ও ধারাবাহিক যুদ্ধই আফগান জনগণের দুর্ভোগ ও দুঃখ-কষ্টের প্রধান কারণ। তাঁর মতে, দৃঢ় অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন একটি একক ব্যবস্থার অধীনেই কেবল প্রকৃত শান্তি অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন সরকার দেখেছি। যেগুলোকে আগে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার বলা হতো, সেগুলো আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। আমরা ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধ ও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। আফগানিস্তানের প্রয়োজন কিছু সময় রাজনৈতিক বিভাজনমুক্ত হয়ে একসঙ্গে বসবাস করা।”

সাক্ষাৎকারের আরেক অংশে পাক-আফগান সম্পর্ক নিয়ে মাওলানা ‍মুজাহিদ বলেন, কাবুল কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা চায় না, বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। তাঁর মতে, পাকিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের স্বার্থের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার নীতি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

আফগানিস্তানের এই নীতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতক বিশ্লেষক একাধিক মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমাদজাই বলেন, “ইমারাতে ইসলামিয়া সবসময়ই বলে এসেছে যে তারা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। পাকিস্তানের বিষয়গুলো সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত।”

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আমির মোহাম্মদ গ্রান বলেন, “আফগানিস্তান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। কারণ যুদ্ধ কেবল ধ্বংস, প্রাণহানি ও অস্থিতিশীলতাই ডেকে আনে।”

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত আফগান জনগণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া বা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শর্ত আরোপ না করা।

তাঁর মতে, জাতিসংঘের উচিত নিজস্ব দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা এবং সংস্থার কাঠামোর ভেতরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান যেন তার ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারে, সে ক্ষেত্রে সহায়তা করা।

সূত্র: তোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ