ওমানের দুকম বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আবারও ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতিও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে একই বন্দরে এটি দ্বিতীয় হামলা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দুকম বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্ক ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, এ হামলায় কোনো মানুষ হতাহত হয়নি।
এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই বন্দরে আরেকটি ড্রোন হামলা হয়েছিল। ওমান নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, রোববার একই বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। একটি ড্রোন শ্রমিকদের আবাসনে আঘাত করলে একজন শ্রমিক আহত হন। অন্য ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি ট্যাঙ্কের কাছে পড়ে।
সোমবার রাজধানী মাস্কাটের উপকূলের কাছেও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণে এক ক্রু সদস্য নিহত হন। নিহত ব্যক্তি ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে দুকম বন্দরে এ হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসা ওমান ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। গত মাসেও দেশটিতে দুই পক্ষের সর্বশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এর আগে সোমবার কাতারের কয়েকটি স্থাপনায় ইরানি হামলার পর দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। একই সময়ে সৌদি আরবও তাদের বৃহত্তম দেশীয় তেল শোধনাগারের উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে আমেরিকা-ইসরাইল জোট ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা আমেরিকার সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি, এএফপি










