বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সুনির্দিষ্ট ও সতর্ক উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, স্থবির হয়ে থাকা ৪০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে দিল্লি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের যোগাযোগের গতি কিছুটা ধীর ছিল। তবে এখন বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভিসা সহজীকরণ, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংহতি বজায় রাখতে দুই দেশই আগ্রহী।
সোমবার (৫ মে) নয়াদিল্লি সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময়ে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, তিস্তার পানি বণ্টন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন, আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন, সীমান্ত ও ভিসা সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বিক্রম মিশ্রি বলেন, প্রায় তিন দশক আগের এই চুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নবায়ন করা হবে। দুই দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে বিষয়টি আটকে আছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের অব্যাহত আলোচনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, মন্তব্যগুলো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে করা হয়েছিল, যা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সঙ্গে মিলিয়ে বড় করে না দেখার পক্ষপাতী তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি বলেন, পররাষ্ট্র সম্পর্ক কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
শেখ হাসিনা ও ভারতের রাজনৈতিক পছন্দ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারসহ সব সরকারের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ভারত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। এ সময় তিনি ২০২৪ সালে ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।











