আসামের মুসলমানদের পক্ষে ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ওয়াছিক ইবনে হাফিজ


ভারতের আসাম প্রদেশে মুসলিম নাগকরিত্ব মামলায় মুসলমানদের পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়,  ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক’ বলতে কিছু থাকতে পারে না।

হিন্দুত্ববাদী ভারত আসাম সরকার মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিক হিসেবে গণ্য করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

আজ এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদীদের ষড়যন্ত্র নৎসাত হয়ে গেলো।

জানা যায়, আসাম নাগরিকত্ব মামলায় ২টি বিষয় আদালতে বিচারাধীন ছিলো। এক: আসাম সরকার বলে আসছিলো যে, নাগরিকত্বের জন্য পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়। আদালত এটাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছেন। দুই: আসামের মুসলিমগণ দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। এটাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ভারতে ‘দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক’ বলতে কোনো পরিভাষা নেই।

উল্লেখ্য, আসামে এক নতুন আইনে মুসলিম নাগরিকত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিলে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী আদালতে আপিল করেন।

এই রায়ের বিষয় বর্তমান বাংলাদেশে অবস্থানরত মাওলানা আরশাদ মাদানী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সুপ্রিমকোর্টে পৌঁছেছে। আমাদের যাই সম্ভবপর ছিল এবং যে বিষয়ে আমরা অবলম্বন করেছি তা হিন্দুস্তানের জন্য উত্তম থেকে উত্তম ছিল। আমরা আইনজীবীদের একটি টিমকে এ বিষয় দায়িত্ব দিয়ে সুপ্রিমকোর্টে পাঠিয়েছি। আল্লাহ্‌ তা’য়ালা আমাদেরকে তাওফীক দিয়েছেন।

মাওলানা মাদানী বলেন, আজকের ফয়সালা আনার পর আমি এই অনুমান করেছি যে, আমার জীবনে এরচেয়ে খুশির বিষয় ইতিপুর্বে কোনদিন অতিবাহিত হয়নি। আমি বুঝতে পারছি যে, আজ উলামায়ে হিন্দের আকাবিরদের রুহ খুশি হবেন। আল্লাহর রহমতে এটা সম্ভব হয়েছে। আমি ইহা বুঝতে পারছি যে, আজ আমাদের মুসলমান এবং মজলুমদের একটি দল আরো অনেক বড় হয়েছে। আমি আরো বুঝতে পারছি যে, আজকের এই ফয়সালা দেশের ভবিষ্যতের জন্য কল্যানের দরজা খুলে দিবে। ইনশা আল্লাহ্‌।