সমাজ সংস্কারে রাসূল ﷺ এর অবদান

সমাজ সংস্কারে রাসূল ﷺ এর অবদান

রবিউল ইহসান তানভীর  |  আলেম ও শিক্ষক


অন্যায়, কুসংস্কার আর অশ্লীলতায় পূর্ণ ছিলো পুরো আরবগোষ্ঠী৷ এমন কোন অপরাধ ছিলো না যা তাদের দ্বারা ঘটতো না৷ তাদের মাঝে না ছিলো প্রাণের নিশ্চয়তা, না ছিলো ধন-সম্পদের নিরাপত্তা৷ গোত্রীয় বিদ্বেষ আর প্রতিশোধপ্রবণতা তাদের মাঝে লেগেই থাকতো যুগ যুগ ধরে৷ তাদের না ছিলো প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান, না ছিলো বিশ্বজগতের অধিপতি সম্পর্কে ক্ষুদ্রতম ধারণা৷ বরং তারা নিষ্প্রাণ মূর্তি-প্রতিমাকেই দিয়েছিলো প্রভূত্বের আসন৷ এই মূর্তিগুলোর কাছেই করতো তারা কল্যাণের আশা,অকল্যাণ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা৷
অবশেষে প্রতিশ্রুত শুভলগ্ন সমুপস্থিত হলো৷ উদয় হলো সেই সূর্যের যার স্বর্ণকিরণে পৃথিবী ঝলমল করে উঠলো৷ প্রকাশিত হলো সেই চাঁদ যার জোছনায় পৃথিবী স্নাত হলো৷ জগতের সব আঁধার দূর হলো তাঁর আগমনে৷ তাঁর আগমনপুলকে আরশ-জমীন পুলকিত হলো৷ উদ্ভাসিত হলো সৃষ্টির প্রতিটি কণা৷ তিনি আমাদের প্রিয় নবী৷ তিনি মুহাম্মাদ মোস্তফা৷

আরব সমাজের তৎকালীন কিছু কুসংস্কার ও তার সংস্কারে রাসূল (সঃ) এর অবদানঃ
পৈতৃক ধর্মের প্রতি অনুরাগ!
পৈতৃক ধর্মের অনুসরণ করার প্রবণতা ছিলো আরবের অধিবাসীদের মাঝে প্রবল৷ এই পরিস্থিতির প্রভাবে বৈপ্লবিক এক নতুন আহ্বান কবুল করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি চরম বাধা হয়ে দাঁড়ালো৷ তারা নিজেদের গোত্রীয় রীতি-নীতি এবং পূর্বপুরুষদের দ্বীন-ধর্মের অনুসরণ করাকে তাদের অনুকূল ও কল্যাণকর মনে করতো৷ একারণেই বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও শান্তির দিশারী ইসলামী বিপ্লবকে তারা সুনজরে দেখতে পারেনি৷ একথা সর্বজনস্বীকৃত যে,কুসংস্কার ও মূর্খতার শিকলে আবদ্ধ মানবতার শৃঙ্খল ছিন্ন করার ইসলামী বিপ্লবকে নিজেদের বিনাশকারী শক্তি বলে মনে করেছিলো৷
প্রতিটি নতুন বিপ্লবের প্রতি গভীর দৃষ্টি দিলে বুঝে আসে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় পাহাড়সম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেগুলোর অন্যতম গোত্রীয় আচারানুষ্ঠান এবং পৈতৃক দ্বীন-ধর্মের প্রতি অনুরাগ৷ মানবতার পদযুগলে এরচেয়ে ভারী আর কিছু নেই৷ বন্ধু ও পরিচিতদের পরিত্যাগ করা,বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া,সন্তান-সন্ততিকে দূরে ঠেলে দেওয়া,গোত্র ও কওমের কালচার ও সংস্কৃতি পরিহার করে অন্যত্র গমন করা যে কোন সম্প্রদায়ের জন্যই অত্যন্ত কষ্টের৷
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা মুয়াজ্জমায় সত্য দীনের আহ্বান উদাত্ত কণ্ঠে উজ্জীবিত করলেন, তখন তার সামগ্রীক বিরোধিতা যেসব কারণে করা হয়েছিলো তার অন্যতম ছিলো এই পৈতৃক দীন-ধর্ম পরিত্যাগের বিষয়টি৷ পৈতৃক ধর্মানুরাগ তাদের মাঝে এতই বিস্তৃতি লাভ করছিলো যে,নতুন কোন ধর্মমতকে গ্রহণ করতে তারা সামান্যও প্রস্তুত ছিলো না৷ বরং নতুন ধর্মমত তথা ইসলামকে তারা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মনে করতো৷ তাই কুরআনুল কারীমে তাদের এই লক্ষ্যমাত্রার কথা বারবার উল্লেখ করে তাদের নির্বুদ্ধিতাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে৷ ইরশাদ হচ্ছে,(অনুবাদ) আর যখন বলা হলোঃ তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহ তায়ালা যা অবতীর্ণ করেছেন, তখন তারা বলতে লাগলো আমরা ঐ মতাদর্শেরই অনুসরণ করবো যা আমরা পূর্বপুরুষদের থেকে পেয়েছি৷ (তারা কী তাই করবে)যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা থাকে বুদ্ধিহীন ও বিভ্রান্ত! (সূরা বাকারাহ,আয়াতঃ১৭০)

আরেক আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,(অনুবাদ) বরং তারা বলে বেড়াতো আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে একটা মতাদর্শের উপর পেয়েছি৷ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেই আমরা সঠিক পথ পেয়ে যাবো৷ এজন্য হে রাসূল, আপনার পূর্বে কোন জনপদে আমি যখনই কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তখন তার বিত্তবান অধিবাসীরা একথা বলেছে যে,আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে একটি জীবনদর্শনের উপর পেয়েছি আর আমরা তাদেরই পদাঙ্কানুসরণকারী৷ হে রাসূল, তাদেরকে বলুন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে মতাদর্শের উপর পেয়েছো যদি আমি তোমাদের সামনে এরচেয়েও সরল ও সঠিক ধর্মাদর্শ নিয়ে আসি (তবু কি তোমরা প্রাচীন ধর্মের অনুসরণ করবে)? (সূরা যুখরুফ,আয়াতঃ২২-২৪)

তাদের গোড়ামী আর অন্ধত্বকে তুলে ধরে অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,বহু লোক এমনও আছে যে,তারা বিশুদ্ধ জ্ঞান,হেদায়াত ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিবাদে লিপ্ত হয়৷ আর যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা অনুসরণ করো যা আল্লাহ তায়ালা অবতীর্ণ করেছেন তখন তারা বলে, আমরা তাই অনুসরণ করবো যার উপর আমাদের বাপ-দাদাদের চলতে দেখেছি৷ (সূরা লোকমান,আয়াতঃ২১)

এই ছিলো পৈতৃক ধর্মের প্রতি আরবদের ভক্তি ও অনুরাগের দৃষ্টান্ত! কুরআনুল কারীমের আরও বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তায়া’লা তাদের এই কুসংস্কারকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন৷ এথেকেই বুঝা যায় পৈতৃক দীন-ধর্ম ও তাদের আচার-অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করা আরবদের জন্য কতটুকু কষ্টকর ছিলো!

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির তিন বছর পর যখন মূর্তিপূজার অসারতা ও অপবিত্রতার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন তখন কুরাইশদের আদালতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে এই অভিযোগ তুলা হলো যে,তিনি খান্দানী দেবতাদের সমালোচনা করে পৈতৃক সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন! তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়৷ তিনি পরিণত হোন তাদের প্রধান শত্রুতে৷ এরপরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনকে সরাসরি ইসলামের প্রতি আহ্বান করেন৷ নির্বোধ উম্মতের হেদায়েতের জন্য ফরিয়াদ করেন আল্লাহর নিকট, ফলে বহু সংখ্যক লোক এই আহ্বানকে গ্রহণ করে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করে৷

গোত্রসমূহের বিবাদঃ
ইসলাম প্রচার ও প্রসারে আরব গোত্রসমূহে বিদ্যমান রক্তপাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহও বড় প্রতিবন্ধক ছিলো৷ বরং তা তাদের গোত্রীয় বৈশিষ্টের শ্রেষ্ঠ উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলো৷ পারস্পারিক এই রক্তপাতের ধারা হাজার বছর ধরে তাদের মাঝে চলে আসছিলো৷ হাজার বছর আগের রক্তশোধও গোত্রীয় দায়িত্ব হিসেবে দিনের পর দিন অবশিষ্ট থাকতো৷ বিভিন্ন গোত্রে এমন প্রতিরোধ্য ও অবশ্যম্ভাবী প্রতিশোধ গ্রহণস্পৃহা সৃষ্টি হয়েছিলো যা নির্মূল করা ছিলো প্রায় অসম্ভব৷ এসকল যুদ্ধ-বিগ্রহের ফলে রক্তপ্রতিশোধ রেওয়াজে পরিণত হয়েছিলো৷ বরং এর ভয়ঙ্কর প্রভাবের ফলে একজনের রক্তশোধ নিতে গিয়ে কখনও কখনও পুরো গোত্রই ধ্বংস হয়ে যে তাদের শিশুরাও মুক্ত ছিলো না এথেকে৷ বুদ্ধি ও বিবেচনার অধিকারী হওয়ার সাথে সাথে শিশুদের মনে-মগজে যে শব্দটি পাখা বিস্তার করতো তা ছিলো এই প্রতিশোধ৷ শিশুদের জবান থেকেও ধ্বনিত হতো প্রতিশোধস্পৃহার জঘন্যতম সঙ্গীত!

আর মানবতার মুক্তির দিশারী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এই নাজুক পরিস্থিতিতে ছিলেন চিন্তিত,ব্যথিত,ভারাক্রান্ত৷ তিনি অত্যন্ত কৌশলে বুদ্ধিদীপ্ত প্রজ্ঞায় তাদের মাঝে সংঘঠিত বিবাদ ও শত্রুতার মীমাংসার জন্য অব্যাহত চেষ্টা শুরু করেন৷ তাদের মাঝে বিদ্যমান প্রতিশোধস্পৃহা তিনি নিশ্চিহ্ন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে৷ তাদের মাঝে প্রতিষ্ঠা করেছেন ঐশী বাণীর জীবন্ত নমুনা৷ তাদেরকে বানিয়েছেন কল্যাণ আর সফলতার দীপ্ত মানদণ্ড৷ তাদের ব্যাপারেই ঘোষিত হয়েছে তাঁর বক্ষনিঃসৃত এই বাণী, “আমার সঙ্গীরা তারকাতুল্য৷ তাদের যে কাউকে তোমরা অনুসরণ করবে সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে”৷

সংস্কারপ্রীতির ভয়াবহতাঃ
গোটা আরবের সংস্কার ও হেদায়েতের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক ছিলো তাদের কুসংস্কারপ্রিয়তা৷ এর ফলে প্রতিটি গোত্রের মূর্খ জাহেলদের মাঝে এই বিশ্বাসটি সুদৃঢ় ছিলো যে,অমুক দেবতা বা অমুক ধর্মগুরুর খেলাপ কোন বাক্য যদি মুখ থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে আকস্মাৎ বালা-মসিবত আমাদের উপর আপতিত হবে৷ তাদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে স্থাপিত ছিলো ছোট বড় অসংখ্য মূর্তি আর প্রতিমা৷ দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ-অকল্যাণ,সফলতা-ব্যর্থতা সবকিছুই তারা এসব প্রাণহীন প্রতিমার সাথে সম্পৃক্ত মনে করতো! নিম্নে তাদের এই কুসংস্কারের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি৷

জাম্মাম ইবনে সালামা (রঃ) ছিলেন বিখ্যাত সাহাবীদের একজন৷ তিনি ইসলাম গ্রহণ করে যখন স্বীয় গোত্রের নিকট প্রত্যাবর্তন করে লা’ত ও ওজ্জার কুৎসা বর্ণনা করতে লাগলেন তখন গোত্রের লোকেরা ভয়ে কম্পিত হয়ে উঠলো৷ তারা বলতে লাগলো হে জাম্মাম, থেমে যাও! লাত,ওজ্জাকে মন্দ গালি দিও না৷ তোমার কুষ্ঠ রোগ হবে৷ তুমি পঙ্গুত্বে পতিত হবে৷
হযরত জোনায়রাহ (রঃ) ইসলাম গ্রহণ করার কিছুদিন পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন৷ এরদ্বারা কাফেরদের মাঝে প্রতিমাভক্তি আরও বৃদ্ধি পায়৷ তারা বলা শুরু করে এটি লাত-ওজ্জারই অসন্তুষ্টির ফল! লাত ও ওজ্জাই তাকে অন্ধ করে দিয়েছে!

এমন আরও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় তখনকার আরবদের মাঝে কুসংস্কারের পরিধি কেমন বিস্তার করেছিলো৷ নিষ্প্রাণ মূর্তি আর প্রতিমার অসন্তুষ্টির ফলে কল্পিত ভয়-ভীতির প্রতি তারা কতটুকু অসহায়ত্ববোধ করতো৷

প্রথমদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মূর্তিসমূহের বিরুদ্ধে ওয়াজ-নসীহত শুরু করলেন তখন অধিকাংশ লোক তাঁকে পাগল আখ্যায়িত করলো৷ চারদিক থেকে তাঁর প্রতি নিক্ষেপ করা হলো ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন তীর৷ তিনি শিকার হয়েছিলেন ভয়ঙ্কর নির্যাতন আর জুলুমের৷ মুশরিকদের প্রস্তরাঘাতে তাঁর দেহ-মুখ হয়েছিলো রক্তাক্ত৷ প্রিয় নবীর চেহারায় সৃষ্টি হয়েছিলো রক্তকণার বিষাদ মিছিল৷

এরপরও রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাল ছাড়েননি৷ আশার আলো প্রস্ফূটিত ছিলো তার ঠোঁটে,ললাট মোবারকে৷ তিনি আহ্বান করতে থাকেন তাদেরকে ইসলামের দিকে,সফলতার দিকে৷ তাদের সামনে তুলে ধরেন হেদায়েতের পথ ও সফলতার পদ্ধতি৷ তাদের নিকট বর্ণনা করেন আল্লাহর বড়ত্বের কথা,জান্নাতের অনাবিল সুখ-শান্তির কথা৷

ফলে মক্কা বিজয়ের পর এসব দেব-দেবী ও প্রতিমাসমূহের শক্তি ও সামর্থের গোপন রহস্য উন্মোচিত হলো৷ লাত,ওজ্জা,মানাত ইত্যাদি দেব-দেবী ও পূজামণ্ডপ মুসলমানগণ স্বহস্তে ধ্বংস করলেন৷ ধূলোয় মিশিয়ে দিলেন আরবের এই কুসংস্কারকে৷ দাফন করলেন তাদের সব অহমিকা আর প্রতিমাভক্তিকে৷ মূর্তিমুক্ত হলো কা’বা৷ প্রতিমামুক্ত হলো মহান প্রভূর পবিত্র ঘর৷

এমন অসংখ্য কুসংস্কার ছিলো আরবজাতির মধ্যে৷ ইসলাম গ্রহণের পথে যার প্রতিটাই ছিলো চরম প্রতিবন্ধক৷ ইসলামী রীতি-নীতি যথার্থভাবে পালনে সেগুলো নবীন মুসলমানদের জন্য ছিলো কঠিন বাধা৷ তখনকার আরব সমাজে বিদ্যমান সবক’টি কুসংস্কারেরই মূলোৎপাটন করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম৷ নিশ্চিহ্ন করেন সমাজ থেকে প্রতিমাভক্তি আর মূর্তিপূজা৷ প্রতিষ্ঠা করেন সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা৷ নিশ্চিত করেন মানুষের নিরাপদ জীবনচলা৷ ধন-সম্পদের নিরাপত্তাও প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর হাতে৷ তাঁর দ্বারাই ইতি ঘটে এক আঁধার যুগের৷ বিলুপ্তি ঘটে এক বর্বর জীবনবিন্যাসের৷