শুক্রবার সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ডেস্ক রিপোর্ট


আজ শুক্রবার সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জামালপুর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে একজন করে নিহত হয়েছেন।

সকালে জামালপুরের বাগেরহাটায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি হয়। এসময় বাড়ির পাশে আম কুড়াতে গিয়ে জান্নাত নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। জান্নাত বাগেরহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল নাড়ে নয়টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় শিশুটি বাড়ির উঠানে আম কুড়াতে গেলে বজ্রপাতের শিকার হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় বজ্রপাতে জাফর মিয়া (৪১) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জাফর মিয়ার বাড়ি উপজেলার বরহাটি গ্রামে।

পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অন্যদের সঙ্গে জাফর মিয়া বালু তোলার কাজ করছিলেন। এ সময় ঝড় শুরু হয়। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি দে বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে লাবণী আক্তার (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় বরমচাল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে বোরো ধান কাটছিলেন বাবুল মিয়া। এ সময় তাঁর জন্য সকালের খাবার নিয়ে যাচ্ছিল লাবণী। হঠাৎ ঝড় শুরু হলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় সে। পরে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যায় লাবণী।

আড়াইহাজারের ফতেপুর ইউনিয়নের সিঙ্গারপুর এলাকায় বজ্রপাতে অনয় দেবনাথ (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে। নিহত অনয় ওই এলাকার জয় দেবনাথের ছেলে ও সরকারি সফর আলী কলেজের ছাত্র ।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, শুক্রবার দুপুরে অনয় দেবনাথ বাড়ির পাশের ক্ষেত থেকে ধান নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে আহত হন। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে বজ্রপাতে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রবি দাস (৪৫) উপজেলর মুড়াআব্দা গ্রামের মৃত যতিন্দ্র দাসের ছেলে। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাওরে ধানকাটার ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এসময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন রবি।

অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ত্রিলোক চাকমা মৃত ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জের মিটামইন উপজেলায় বজ্রপাতে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত শরিফুল ইসলাম (১৫) মিঠামইন সদর ইউনিয়নের মহিষারকান্দি গ্রামের মো. ওয়াসকরুনীর ছেলে। সে মহিষারকান্দি নিজামিয়া মাতলুবুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

মিঠামইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফ কামাল জানান, দুপুরে মিটামইন ইউনিয়নের মহিষারকান্দি হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, শরিফুল তার বাবার সঙ্গে দক্ষিণের বড় হাওর থেকে ধান কেটে ইঞ্জিনচালিত ট্রলিতে করে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।