সিয়াম সাধনা ও আত্মোপলব্ধি


মুহাম্মাদ জিন্নুরাইন


চাঁদ দেখার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজানুল মোবারক। ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ রোজা। ঈমানদার বান্দার তাকওয়া অর্জনের শারীরিক ইবাদত।

পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার জন্য বান্দার কাছে অফুরন্ত সুযোগ থাকে। একইসাথে এ মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ক্ষুধা-তৃষ্ণা, অভাবি-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট বাস্তব উপলব্ধি করার সুযোগ পায়।

সকল ফকীহদের মতে মাহে রমজানের রোজা দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে ফরজ হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোট নয়টি মাহে রমজানের রোজা রেখেছেন।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে বান্দা যেসকল জিনিস অর্জন করে, তা হলো-
১-পানাহার ছেড়ে আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়া
২-আধ্যাত্মিক শক্তির উন্নতি সাধন
৩-সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য সহমর্মিতা ও বিনম্র স্বভাব গঠন
৪-পাপ থেকে দূরে থাকার মাধ্যম
৫-সহমর্মিতা বোধের চেতনা সৃষ্টি
৬-আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমূহের চেতনা সৃষ্টি
৭ তাওবার প্রশিক্ষণ গ্রহণ
৮-সিয়াম সাধনা বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজে সাম্য মৈত্রী ভ্রাতৃত্ব ভালোবাসা ও সহানুভূতিশীল মনোভাবের জন্ম দেয়
৯-শয়তানের আক্রম আক্রমণ প্রতিহত করার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার রোজা
১০-রোজা পালনের মাধ্যমে গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়
১১-রোজা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম
১২-রোজা আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম
১৩-রোজার মাধ্যমে অবারিত রহমত লাভ করা যায়
১৪-কোরআন নাজিল নাজিলের মাস রমজান। রোজার মাধ্যমে কোরআনের বরকত লাভ করা যায়

হাদিসে বর্ণিত আছে, যখন রমজান মাস আসে আল্লাহর রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ রাখা হয়, শয়তানকে শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়। [বুখারি ও মুসলিম]। তাই এ মাস আমাদের ইবাদতের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে।

বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্ব করোনা মহামারীতে ভুগছে। আমরা সবাই লকডাউন অবস্থায় রয়েছি। এমতাবস্থায় রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের এই মাস আমাদের পাপমোচনের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। আমরা যেন অবারিত এই সুযোগকে কাজে লাগাই। রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পার্থিব ও পরকালীন জীবনকে সমৃদ্ধ করি!

বুখারী শরীফের হাদিসের বর্ণনায় রয়েছে, শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা নয়; বরং বেহুদা-অযাচিত কথাবার্তা থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের উচিৎ, পবিত্র সিয়াম সাধনার এই মাসে অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকা। কুরআন তেলাওয়াতের পাবন্দি করা। একইসাথে গীবত-শেকায়েত, পরনিন্দা-পরচর্চা পরিহার করা। কেননা এগুলো রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থি কাজ।

বর্তমান সময়ে আমরা আল্লাহর আজাবে রয়েছি। আমাদের কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা পার্থনা করা দরকার। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমাদের বর্তমান এই করুন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবার কোনো উপায় নেই। এজন্য আমাদেরকে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে তওবার মাধ্যমে রমজানে প্রবেশ করতে হবে। সব ধরনের জুলুম-অন্যায় থেকে বিরত থাকতে হবে। যাদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে।