তারাবীহ শুরুর পূর্বে মক্কায় মসজিদে হারামে শায়েখ সুদাইসের বক্তব্য

আজ থেকে আরব বিশ্বে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। কার্যত বৃহস্পতিবার রাতে সেখানের মুসলমানগণ তারাবীহ নামাজ আদায় করেছেন। সাধারণ মানুষের জন্য তারাবীহ ঘরে আদায়ের নির্দেশ থাকলেও দুই পবিত্র মসজিদ মক্কা-মদীনায় সীমিত আকারে তারাবীহ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

গতকাল মক্কার মসজিদে হারামে কা’বা শরীফের ইমামগণ একসাথে তারাবীহ নামাজ আদায় করেন। তারাবীহ পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ নসীহত পেশ করেন হারামাইন শরীফাইনের সাধারণ ব্যবস্থাপনা প্রধান, কাবা শরীফের ইমাম ও খতীব শাইখ আব্দুর রহমান আস সুদাইস। ইনসাফের পাঠকদের জন্য তাঁর বক্তব্যের অনুবাদ পেশ করা হলো। অনুবাদ করেছেন নাহিয়ান হাসান।

“আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম করুণাময় অতি দয়ালু। আমরা প্রশংসা স্তুতি গাই তাঁর সকল নেয়ামতের উপর এবং নেয়ামতরাজির ঐ অংশের উপর যার ফলে আমাদের এই বরকতময় রমজান মাস চাক্ষুষ করার তাওফিক হয়েছে।”

“অনুরূপ ভাবে আমরা খাতামুল আম্বিয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারপরিজনের উপর সালাম পেশ করছি। তাঁদের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।”

“আল্লাহ তায়ালার যে সমস্ত বরকত আমাদের উপর রয়েছে সেগুলোর চাহিদা হলো আমরা যাতে এই বরকতময় রমজান মাসে তাঁর সাক্ষ্য দেই।”

“হে মুসলিম ভাইয়েরা! এটি আমাদের সকলের জন্যই একটি বরকতময় মাস। (আল্লাহ পাক আমাদের সকলের আমল সমূহ কবুল করুন।) আমরা আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ ঈমান ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে চাইছি আল্লাহ পাক যাতে আমাদেরকে সিয়াম সাধনা ও তাঁর ইবাদাত বন্দেগীর সুযোগ দেন এবং সেগুলো আমাদের পক্ষ থেকে ইবাদাত রূপে কবুল করে নেন এবং এই বরকতময় মাস যাতে জাহান্নামের আগুনের বিপরীতে আমাদের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে যায়।”

“এই পবিত্র বরকতময় মাসের বরকত সমূহের ক্ষেত্রে কোনো বাড়াবাড়ি নেই কেননা স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদেরকে আগত রমজান মাসে এর সুসংবাদ শুনাতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁদেরকে এই মহান মাসের বরকত সমূহের ফিরিস্তি দিতেন।”

“প্রিয় ভাইগণ! আমাদের উচিত এই পবিত্র মাসে আমরা যাতে আমাদের সময়কে ইবাদাতে ব্যয় করি। আমাদের ইবাদাত যাতে শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্যই হয়। অতঃপর পাপমোচনের জন্য এই সুযোগকে যাতে আমরা কাজে লাগাই। সিয়াম সাধনাকালীন আমরা যাতে মধ্যরাতে নামাজের জন্য উঠে যাই। আমাদের উচিত আমাদের দৈনিক ইবাদাতগুলো যেন দ্বীন অনুসৃত হয়। যেহেতু তা মধুময় হয় নেক আমলসমূহের দ্বারাই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য চন্দ্রমাস গুলোর তুলনায় পবিত্র রমজান মাসে নেক আমল সমূহ দ্বিগুণ করতেন। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নেতৃবর্গের জন্য দোয়া করবো। যেহেতু দোয়া করাও নেক আমল। এই মাস ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য প্রচুর বরকত ও সুসংবাদ বয়ে আনুক এবং মহান আল্লাহ তা’আলা যাতে মুসলিম উম্মাহকে সর্বপ্রকার কষ্ট ও মহামারি থেকে হেফাজত করেন।”

“আমার সম্মানিত ভাইয়েরা! পুরো বিশ্ব এখন মারাত্মক মহামারীতে ভুগছে আর তা হল ‘করোনা মহামারি’। এটা তো আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা ইবাদাতে সময় কাটাতে পারছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যাতে তিনি সবাইকে এই মহামারি, কষ্ট ও প্লেগজাতীয় রোগ থেকে রক্ষা করেন। আমাদের উচিত আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য, আমাদের নেতৃবর্গের জন্য এমনকি সকল উম্মতে ইসলামিয়্যার জন্য ও বিশ্ববাসীর জন্য ব্যপকভাবে দোয়া করা। আমাদের নেতৃবর্গের প্রতি আমাদের অনুগত থাকা উচিত কেননা তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন এবং তাঁর আমাদের মঙ্গল ও সার্বিক কল্যাণের প্রতিও লক্ষ্য রাখেন। (আল্লাহ পাক তাদেরকে হেফাজত করুক) এই পর্যায়ে আমরা মসজিদুল হারামে আছি এবং আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যাতে তিনি হারামে বরকত দান করেন, হারামকে রক্ষা করেন এবং হারামের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে যে, হারামের সাময়িক বন্দীদশা এবং সম্মিলিত ইবাদাতে সাময়িক স্থগিতাদেশ আমাদের সুরক্ষা, জাতির সুরক্ষা এবং সকলের সাধারণ কল্যাণের জন্যই গ্রহণ করা হয়েছে। আর যারা এই সময়ে মসজিদুল হারামে আসতেন ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে তারা একথা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ পাক আপনাকে অবশ্যই এর প্রতিদান দিবেন। কেননা কর্মসমূহের ফলাফল নিয়তসমূহের উপর নির্ভরশীল।”

“পুনরায় আল্লাহ পাকের প্রশংসা করছি, কারণ তিনি আমাদেরকে এই বরকতে পরিপূর্ণ মাস দেখার তাওফিক দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দেন, আমাদের উপর রহমত নাজিল করেন, আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন, আমাদের রাষ্ট্র সহ সকল উম্মতে মুসলিমাকে সবধরনের প্লেগ ও মহামারি এবং মুসিবত থেকে হেফাজত করেন, (এই উদ্দেশ্য পূরণে আমাদের আরো বেশি দোয়া করতে হবে।)হে প্রভুত্বের সার্বভৌম প্রভু! আমাদের রক্ষা করুন। আপনিই একমাত্র সত্তা যার নিকটে আমরা কান্নাকাটি করি, আপনি আমাদের দোয়া কবুল করুন। নিশ্চয় আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদের প্রতি অতিব দয়ালু। তোমরা তোমাদের নেকি বাড়াও, আল্লাহর প্রতি তোমার ইবাদাতকে বাড়িয়ে দাও যাতে একপর্যায়ে আল্লাহ পাক আমাদেরকে এই মহামারী ও কঠিনতা থেকে পরিত্রাণ দেন এবং এই মুসিবতগুলো থেকে আমাদের দেশ ও প্রত্যেক ইসলামী রাষ্ট্রকে হেফাজত করেন।”