ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৭

মহানবী সা. এর কবি সাহাবি হাসসান বিন সাবিত রাযি.

মহানবী সা. এর কবি সাহাবি হাসসান বিন সাবিত রাযি.

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


ওমর ফারুক সাহিল
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক : ঐশীস্বর


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর স্নেহ ধন্য সাহাবি হাসসান বিন সাবিত রাযি.। যার চমৎকার উপদি ছিল রাসুলের (সা.) প্রিয় কবি সাহাবি। কবিতার ভাষায় দ্বীনের শত্রুর বিরুদ্ধে ছিল যার প্রতিবাদ প্রতিরোধ। অবিরত গেয়ে যেতেন মহান আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিবের স্তুতি।

মহানবীকে তিনি ভালোবাসতেন প্রাণ দিয়ে। তাঁর সেই ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। ‘তোমার তারিফ’ কবিতায় রাসূলের সা. প্রতি তাঁর সেই ভালোবাসার দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাই।

যেমন-‘তোমার চোখের মত ভালো চোখ পৃথিবীতে নেই, এবং কোন মাতা এমন সুন্দর পুত্র আর প্রসব করেনি জানি বিশ্বে কোথাও। তোমার সৃজন সে তো একেবারে দোষ মুক্ত করে এবং তুমিও তাই চেয়েছিলে আপন ইচ্ছায়; তোমার তারিফ এই পৃথিবীতে বেড়েই চলেছে যেমন কস্তুরী ঘ্রাণ বাতাসে কেবলি ছুটে চলে। তোমার সৌভাগ্য, যার নেই কোন সীমা-পরিসীমা সমুদ্র পানির মতো তোমার হাতের দয়ারাশি এবং তোমার দান নদীর মতোন বেগে চলে। আল্লাহ সহায় হোন হে রাসূল তোমার উপরে কেননা শত্রুরা জ্বলে সর্বক্ষণ তোমার ঈর্ষায়। তোমার প্রশংসা করি আমার তেমন ভাষা নেই আমিতো নগণ্য কবি।  অন্তত : ভাষার দিক থেকে প্রশংসা পায় না নবী। নিছক আমার এ ভাষায় নবীর ছোঁয়া পেয়ে এ কবিতা অমরত্ব পাবে।

কবি হাসসান বিন সাবিত হিজরতের প্রায় ষাট বছর পূর্বে ৫৬৩ খ্রীস্টাব্দে ইয়াছরিবে (মদীনা) জন্মগ্রহণ করেন। কবি হাসসান বিন সাবিত যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর জীবনে বার্দ্ধক্য এসে গিয়েছিল। মদীনায় ইসলাম প্রচারের সূচনা পর্বে তিনি মুসলমান হন। রাসূলুল্লাহর (সা) মদীনায় হিজরতের সময় হাসসানের বয়স ছিল ষাট বছর।
কবি হাসসান বিন সাবিত ছিলেন একজন বাগ্মী ও বীর যোদ্ধা। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। একবার ইবন আব্বাসকে বলা হলো হাসসান আল লাঈন (অভিশপ্ত হাসসান) এসেছে। কবি হাসসান বিন সাবিত বললেন : ‘হাসসান অভিশপ্ত নন। তিনি জীবন ও জিহ্বা দিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) সাথে জিহাদ করেছেন।’
পৌত্তলিক কবিদের নিন্দা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও অপপ্রচারের জবাব দানের জন্য তৎকালীন আরবের তিনজন শ্রেষ্ঠ কবি মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা) পাশে এসে দাঁড়ান। তাঁরা হলেন হাসসান বিন সাবিত, কাব ইবন মালিক ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা। হাসসান ও কাব প্রতিপক্ষ কবিদের জবাব দিতেন তাদেরই মত বিভিন্ন ঘটনা, যুদ্ধ-বিগ্রহের জয়-পরাজয়, কীর্তি ও গৌরব তুলে ধরে, আর আবদুল্লাহ তাদের কুফরী ও দেব-দেবীর পূজার কথা উল্লেখ করে ধিক্কার দিতেন।
আরবদের মতে, হাসসান বিন সাবিত রা. মক্কা, মদিনা ও তায়েফের শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।

হাসসান সাবিত (রা.) রাসুল (সা.) এর প্রধান সাহাবিদের অন্যতম ছিলেন। রাসুল (সা.) এর ইন্তেকালের পর তিনি প্রিয় নবীজির স্মরণে লেখেন-
‘তুমি ছিলে আমার নয়নের মণি, তোমার মৃত্যুতে আমি অন্ধ হয়ে গেছি। এখন অন্য কারও মৃত্যুতে আমার কোনো
প্রতিক্রিয়াই হবে না।’
খলিফারাও তাকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছিলেন। আমিরে মুয়াবিয়া (রা.) এর খেলাফতকালে ৫৪ হিজরিতে ১২০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
নবীজী সা. এর বিভিন্ন সিরাত গ্রন্থে কবিতার ভাষায় রাসূলের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ববোধের বর্ণনা এভাবেই পাওয়া যায় ইসলামি সাহিত্য ও সংস্কৃতির এ উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা কবি সাহাবি হাসসান বিন সাবিত রা. কথা।