বার্মার সেনা প্রধান ও সুচি’র বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারে বাংলাদেশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুহাম্মদ শাহ আলম


৯০ এর দশকে বসনিয়ান গণহত্যার জন্য তৎকালীন যুগোস্লাব নেতা রাদোভ্যান ক্যারাদিজ এবং সেনা কমাণ্ডার রাতকো ম্যালাদিসকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং গরাদের আড়ালে যেতে হয়েছে।

বার্মায় এথনিক নির্মূলকরণ গণহত্যা এবং মানবতার প্রতি নিষ্ঠুরতার (Cruelty against humanity) জন্য বর্মী সেনা কমাণ্ডার মিন অং ল্যাইং এবং নীরব সমর্থন দানের জন্য অং সান সুকিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে বিচারের সম্মুখীন করতে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুয়ারে সোচ্চার আওয়াজ তুলতে পারে। এটা বাংলাদেশের কর্তব্য। বাংলাদেশ ইচ্ছায় হোক, মানবতার প্রতি দরদী হয়ে কিংবা ঠেলায় পড়ে হোক শেষতক বর্মা থেকে বিতাড়িত মজলুম রোহিংগাদের প্রধান আশ্রয়দাতা এখন। এই উপদ্রব বাংলাদেশ মোকাবেলা করে আসছে ১৯৭৮ সাল থেকে, যদিও তখনকার ঘটনা তৎকালীন সরকার সাফল্যের সাথে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

প্রাণ বাঁচানোর জন্য আশ্রয় সন্ধানী রোহিংগাদের এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিজ ভূমিতে ফিরে যাবার যে কোন একটা সুরাহা হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে এদের ভার বহন করতে হবে। অতএব এদের জন্য যাবতীয় দেন দরবারের মাথাব্যাথা এখন বাংলাদেশের। এই সমস্যা মোকাবেলায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুর্কি, ইরান সহ মুসলিম দেশগুলোকে সাথে পাবার জন্য বাংলাদেশ এখন নব তৎপরতা শুরু করতে পারে।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের ছকে বাংলাদেশ যদি সেই পুরনো গীত গাইতে থাকে, শেখ হাসিনা যেভাবে শুরুর দিকে বলে আসছিলেন, সামনে সমূহ বিপদ! ব্রহ্মদেশ অচিরেই সিরিয়ায় রূপান্তরিত হবে। তখন ঐ জ্বলন্ত উনূনের উত্তাপ থেকে বাংলাদেশ নিজেকে বাঁচাতে পারবে না।

এ থেকে বাঁচার উপায় বাংলাদেশকে রোহিংগাদের আপন ভূমিতে ফিরে যাবার কিংবা ভূমি উদ্ধারের মুক্তি সংগ্রামের সহযোগী হবার স্বতঃপ্রণোদিত আগাম সুযোগ (preemptive) নিতে হবে। শরণার্থীদের সমর প্রশিক্ষণ ও সমরাস্ত্র দিয়ে নিজদের জন্য নিজদের লড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। নিপীড়িত নির্যাতিত জাতি সমূহের পাশে দাঁড়ানোর অংগিকার রয়েছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ নিজেও পরাশ্রয়ে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করে নিজকে স্বাধীন করে জাতি রাষ্ট্র হয়েছে। এটাও বাংলাদেশ ভুলে যেতে পারে না।


ফেসবুক থেকে