ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সহকারি মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম বলেছেন, ভারতের কর্ণাটক হাইকোর্টের হিজাব নিয়ে ঘোষিত রায় সেদেশের সংবিধান পরিপন্থী। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের জওহর লাল নেহেরু এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ১৯৪৮ সালে দেশটির সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ এবং মুসলমানসহ সব ধর্মাবলম্বীর নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা সুসংরক্ষিত করে আইন পাশ করা হয়েছে। তাই কর্ণাটকের আদালতের হিজাব নিয়ে ঘোষিত রায় ভারতীয় সংবিধানবিরোধী। এ ধরণের রায় মুসলিম জাতির হৃদয়ে চরম আঘাতের শামিল।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষিত দাওয়াতি মাস উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৬৬ নং ওয়ার্ড শাখা আয়োজিত দাওয়াতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়ার্ড সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দাওয়াতী সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেমরা থানা সেক্রেটারী ইকরামুল হক। এছাড়াও ওয়ার্ড শাখা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার অধিকার চেয়ে ভারতের কর্নাটকের কয়েক মুসলিম ছাত্রী যে আবেদন করেছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কর্নাটক রাজ্যের হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার এক রায় ঘোষণা করে। যাতে মেয়েদের হিজাব পরা কখনোই ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অংশ নয় বলে দাবি করা হয়। এ রায় মুসলিম জাতির হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। অনতিবিলম্বে এ ধরণের ইসলামবিরোধী রায় বাতিল করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, হিজাব নিয়ে কর্নাটক হাইকোর্টের রায় কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতাবিরোধী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ড্রেস কোড মানার নামে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার হিজাব নিষিদ্ধ করার অধিকার কারো নেই। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হিজাবের বিরুদ্ধে রায় মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনে রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতার শামিল। অবিলম্বে হিজাব বিরোধী রায় প্রত্যাহার করতে বিজেপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।










