উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ ঋণ নিলেও তা সময়মতো পরিশোধ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সবসময় আমাদের একটা হিসাব থাকে, আমরা কিন্তু ঋণখেলাপি না। আমরা যেখান থেকে যত ঋণ নিয়েছি, প্রত্যেকটা ঋণ সময়মতো পরিশোধ করেছি।
গতকাল সোমবার (১১ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমি আবারও বলছি, পত্রিকার লেখা পড়ে আমি রাষ্ট্র চালাই না। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে এমন একটা কথা রটাচ্ছে। আমরা উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা নিচ্ছি-এটা ঠিক। কিন্তু সব সময় আমাদের একটা হিসাব থাকে, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, আমরা ঋণখেলাপি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখান থেকে যত ঋণ নিয়েছি, প্রত্যেকটা ঋণ সময়মতো পরিশোধ করেছি। যতরকমের দুর্দশা হোক, এমনকি এই করোনার মাঝেও ঋণখেলাপি হয়নি। যার কাছে যত ঋণ নিয়েছি, সেটা সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছি। এটা করে গেছি। সেদিক থেকে আমাদের রেকর্ড সব থেকে ভালো।
সরকার পরিকল্পনা করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথা থেকে কত ঋণ নিলাম, যে উন্নয়ন কাজটি করছি, সেটা থেকে নিজেরা কতটুকু লাভবান হবো বা এই উন্নয়ন থেকে রিটার্ন কি, সে বিষয়ে আমরা সচেতন। আমরা এমন কোনও পরিকল্পনা নেই না, যেটি বাস্তবায়ন হলে মানুষের কাজে আসবে না বা কল্যাণ হবে না।
বিনিয়োগের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে বলে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগগুলো নেওয়ার সময়ও আমাদের সেই হিসাবটা করতে হবে। তার রিটার্ন কী হবে এবং আমাদের লাভটা কী হবে। সেই বিনিয়োগটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য যে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশ লাভজনক হবে। দেশের কতটুকু উন্নতি হবে, মানুষের ভাগ্য কতটুকু পরিবর্তন হবে, আমাদের সেই চিন্তাটা মাথায় রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলতে গেলে অনেক দল দরকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উন্নত বিশ্বে দেখলে আপনারা দেখবেন সেখানে কিন্তু মাত্র দু’দল হয়ে গেছে এখন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুই দলের বেশি শক্তিশালী দল নাই। আমেরিকার প্রায় ২৫ শতাংশ সংগঠন ইলেকশনই করে না। ইলেকশন করার বিষয়ে একটা অনীহা চলে আসে মানুষের। এটাও কিন্তু অনেক দেশে দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশটা ধীরে ধীরে ওরকম হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য সবাই ঝাঁপ দিয়ে আসছে। আমাদের খুব হিসাব করে পা ফেলতে হবে। আমরা যদি সতর্ক থাকি, তাহলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। এটা আমার বিশ্বাস।’ শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অপজিশন বলতে যারা আছে, তার মধ্যে দু’টো পার্টিই (বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি) হচ্ছে একেবারে সংবিধান লঙ্ঘন করে, আর্মি রুলস ভঙ্গ করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা মিলিটারি ডিক্টেটরের হাতে গড়া।
তিনি আরও বলেন, মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কটা তাদের মাঝে নেই। তাদের কাছে ক্ষমতাটা ছিল একটা ভোগের জায়গা। সেক্ষেত্রে আসলে অপজিশন তাহলে কোথায়? এখানে একটা পলিটিক্যাল সমস্যা কিন্তু আছে। সরকার প্রধান বলেন, আমরা আমাদের শক্তিশালী বিরোধীদল পাচ্ছি না। তাদের অবস্থানটা মানুষের কাছে নেই। কারণ তারা তো এসেছেই একটা ভাসমান অবস্থায়। আমাদের ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড থেকে যখন শোনায় যে, এখানে ডেমোক্রেসি, পার্টিসিপেটরি ডেমোক্রেসি, ইলেকশন, হেনতেন; কিন্তু আসলে এখানে করবেটা কি। সেটাও তারা চিন্তা করে না।










