spot_img
spot_img

বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে ঢুকছে পানি; ডুবে গেছে কৃষকের আধা পাকা ধান

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন হাওরের বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ ও গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশ উপপ্রকল্পের ২৭নং ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে গলগলিয়া ও পানার হাওরের প্রায় ৩শ’ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

অপরদিকে, গুরমার বর্ধিতাংশ এই বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার ছোটবড় কয়েকটি হাওর হুমকির মুখে রয়েছে।

রোববার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গুরমার হাওরের বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করতে থাকে। অপরদিকে বেলা সাড়ে ৩টায় গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশ উপপ্রকল্পের ২৭নং ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙে যায়।

এতে তাহিরপুর উপজেলার গলগলিয়া ও পানার হাওরে পানি ঢুকে প্রায় ৩শ” বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ডুবে যাওয়া পাকা-আধাপাকা ধান নিয়ে দিশেহারা স্থানীয় কৃষকেরা।

জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী ধরে ভারি বৃষ্টিপাতসহ শিলাবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে অস্বাভিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রোববার বিকালে সরেজমিনে টাঙ্গুয়াসহ গুরমার হাওর ঘুরে দেখা যায়, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে হাওরের চারদিকেই উঁচু বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে।

পানার হাওরের কৃষক সাইফুল ইসলাম শেখ (৬৫) জানান, তিনি এ হাওরে ৩ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন। ২৭নং প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় তার সমস্ত জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে।

গলগলিয়া হাওরের কৃষক শফিক নুর জানান, গলগলিয়া একটি ছোট হাওর এখানে প্রায় ৫০-৬০টি কৃষক পরিবার জমি চাষাবাদ করেন, কিন্তু গুরুমার হাওরের একটি ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।

মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরে পানি প্রবেশ করায় আমাদের সবগুলো হাওর এখন ঝুঁকিতে রয়েছে, যেকোনো সময় আমাদের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শিমুল আহমেদ বলেন, নদীতে অস্বাভিক পানি বৃদ্ধির ফলে রোববার বিকালে হঠাৎ গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে আট-দশটি গ্রামের শতশত বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ