শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

কর্ণাটকে হিজাব নিষিদ্ধ মামলায় আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে

ভারতের কর্ণাটকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ মামলায় আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে আদালতে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন।

আজ (বুধবার) বিচারপতি এনভি রমনা এবং কৃষ্ণা মুরারির একটি বেঞ্চ আইনজীবীর সাফাইকে আমল দিয়ে বলেন আবেদনটি ১৫ মার্চ দায়ের করা হয়েছিল, যা দীর্ঘ সময় হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো শুনানি হয়নি। সেজন্য আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে কর্ণাটকের স্কুল-কলেজে হিজাব পরার বিষয়ে হাইকোর্ট তার রায় দেয়। আদালত হিজাবের সমর্থনে মুসলিম মেয়েদেরসহ অন্যান্য লোকেদের করা 8টি আবেদনের সবক’টি খারিজ করে দিয়েছিল এবং এরপরে আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেন।

গত মার্চে কর্ণাটক হাইকোর্ট হিজাব ইস্যুতে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেছিল হিজাব ইসলামের বাধ্যতামূলক অংশ নয়। এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল বা কলেজের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরতে অস্বীকার করতে পারে না। গত ১৫ মার্চ হাইকোর্ট হিজাবের সমর্থনে মুসলিম ছাত্রীরাসহ অন্যান্য ব্যক্তিদের করা 8টি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। প্রধান বিচারপতি ঋতুরাজ অবস্থি সমন্বিত তিন বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ রাজ্য সরকারের ৫ ফেব্রুয়ারির আদেশ বাতিল করতে অস্বীকার করেছিলেন, যা স্কুল ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করেছিল।

গত জানুয়ারিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত কর্ণাটকে হিজাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কর্ণাটকের উডুপিতে, হিজাব পরার জন্য ৬ মুসলিম ছাত্রীকে কলেজের ক্লাস রুমে বসতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নতুন ইউনিফর্ম নীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল কলেজ ম্যানেজমেন্ট। এরপর ওই মুসলিম মেয়েরা কর্ণাটক হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করেন। মুসলিম ছাত্রীরা বলেন, হিজাব পরার অনুমতি না দেওয়া সংবিধানের ১৪ এবং ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। বিষয়টি নিয়ে সে সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। আন্দোলনরত মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার দাবিতে অনড় রয়েছেন।

মুসলিম ছাত্রীরা ছাড়াও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড, সমস্ত কেরালা জামিয়াতুল উলেমার মতো সংগঠনও হিজাব বিতর্কে আদালতে পিটিশন দাখিল করেছে। মামলায় আবেদনকারী আইনজীবীরা এরআগে তিনবার তাৎক্ষণিক শুনানির চেষ্টা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, হাইকোর্টের রায়ের প্রভাব পড়ছে ছাত্রীদের পড়ালেখায়। ছাত্রীরা, যারা হিজাব বাধ্যতামূলক বলে মনে করে, তারা পরীক্ষাতেও বসতে পারছে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে দ্রুত শুনানির জন্য রাখা প্রয়োজন মনে করেনি।

পার্সটুডে

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ