বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার জেরে অর্থনীতিতে নানা সমস্যা থাকলেও এ মুহূর্তে জ্বালানিসঙ্কটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, জ্বালানিসঙ্কট মোকাবিলা করাই হবে আগামী ছয় মাসে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বাংলাদেশ বেকাদায় আছে, তবে আমরা আশা করছি, এর দাম অচিরেই কমে আসবে। যদি দাম না কমে তাহলে সঙ্কট আরও বাড়বে।
আজ শনিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সম্মেলনকক্ষে দেশে কর্মরত বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর সংগঠন ওভারসিজ করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ওকাব) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মত দেন।
সভায় অর্থনীতির নানা বিষয় আলোচনায় উঠে এলেও বেশির ভাগ সময় জ্বালানি খাতের সমস্যা নিয়ে কথা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর ভারত সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এসব আলোচনায় একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আমি আশা করছি।
বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আমি যখন বিদেশে যাই, তখন অনেকেই জিজ্ঞাসা করে, বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার ম্যাজিক কী? আমি বলেছি, এর পেছনে অবদান রেখেছে আমাদের বিদ্যুৎ খাত। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে, তার বাস্তবায়নের ফলেই আজ আমরা সুফল পাচ্ছি। কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যে সাফল্য এসেছে, তার মূল কারণ বিদ্যুৎ। বর্তমানে দেশে উন্নয়নের যে ধারা বইছে, বিদ্যুৎ খাতের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালমান বলেন, সুদের হার ৯ শতাংশ বেঁধে দেওয়ার কারণেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশের সুদহার বাড়ানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।
বাংলাদেশ তা করতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, সুদহার বাড়ালে শিল্পের খরচ বেড়ে যাবে, তবে এটা ঠিক, সুদহারের সীমা অনেক বছর ধরে বেঁধে রাখা ঠিক না। কোভিডের অভিঘাত ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি আমরা, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছিল, যুদ্ধ না হলে সুদের হারের সীমা তুলে দেওয়া যেত।










