খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। অতীতের মতো সরকারের কলাকৌশল আর তালবাহান নির্বাচন জাতি আর দেখতে চায় না। সরকার যত উন্নয়নের কথা বলে ততই দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির উন্নয়ন জনগণ চায় না। জাতির মুক্তির জন্য খেলাফত মজলিসের ৮ দফা মানতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতারকৃত আলেম উলামা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
আজ শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খেলাফত মজলিস ঘোষিত ৮ দফা দাবী আদায়ে দেশব্যাপী জেলা-মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরী আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবুল হোসেন ও মুফতি আজীজুল হকের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল জলিল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহব উদ্দিন আহমদ খন্দকার, ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাজী নূর হোসেন, শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল করিম, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক কে এম ইমরান হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, মাওলানা আনোয়ারুল করিম, আলহাজ্ব আমীর আলী হাওলাদার, এনামুল হক হাসান, মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মাওলানা ফরিদ আহমদ হেলালী, হাফেজ মুহাম্মদ সালমান, ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মাদ আবদুল জলিল বলেন, দেশ এক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। মানুষ ভোট-ভাতের অধিকার বঞ্চিত, ইসলামী শিক্ষা সংকোচন করা হচ্ছে, বেকার সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ সব সংকট উত্তরণে খেলাফত মজলিস ঘোষিত ৮ দফা দাবী মেনে নিতে হবে। জনগণের সরকার কায়েমে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশের পর এক বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাকিংর সামনে এসে শেষ হয়।
এদিকে চলমান সংকট নিরসনে খেলাফত মজলিস ঘোষিত ৮ দফা দাবী আদায়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেট মহানগরী, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ সুরমা, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ থানায়, মৌলভীবাজার শহর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নারয়নগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রাম মহানগরী ও উত্তর জেলা, কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
খেলাফত মজলিস ঘোষিত ৮ দফা দাবী হচ্ছে :
১। ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি বন্ধ ও বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিল করা।
২। দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ।
৩। নির্বাচনে সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা।
৫। গ্রেফতারকৃত আলেম উলামা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা।
৬। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিতকরণ।
৭। পণ্যমূল্য কমিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব ও দুর্নীতি নির্মূল করা।
৮। বেকার সমস্যা সমাধান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারী চাকুরীতে নিয়োগ দান।










