শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রহ.)-এর শাগরিদকে তুলে নিয়ে গেলো কাশ্মীরের গোয়েন্দারা

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত দেওবন্দী মনিষী মাওলানা মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী (রহ.) এর শাগরিদ ও ইজাজত প্রাপ্ত খলিফা কাশ্মীরের মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমীকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে কাশ্মীরের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ।

জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গত বুধবার (৭ জুন) তাকে তুলে নিয়ে যায় এনআইএর সদস্যরা। তাকে শ্রীনগরের এনআইএ সদর দপ্তরে ৬ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তরুণদের কট্টরপন্থী মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলা, বিভিন্ন অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ শিক্ষা ও আল হুদা এডুকেশনাল ট্রাস্টের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে ধারা ১২০ বি, ১৫৩ এ, ১০, ১৩ ও ২২ সি এর অধীনে তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছিলো এনআইএ।

এনআইএর বক্তব্য মতে, মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমীর আল হুদা এডুকেশনাল ট্রাস্ট মূলত ভারত সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন জামাতে ইসলাম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে তাদের কার্যক্রম যেনো থেমে না যায় তা নিশ্চিত করতেই আল হুদা এডুকেশনাল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলো সংগঠনটি। এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ভারত বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নে তহবিল সংগ্রহ করা।

কাশ্মীরী সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরের অন্যতম বৃহৎ ও সুপ্রসিদ্ধ মাদরাসা দারুল উলূম রহিমিয়ার পরিচালক মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমী কাশ্মীরের অত্যন্ত মান্যগণ্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের আগে কোনো অভিযোগ ছিলো না সরকারের। হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধানে পরিবর্তন এনে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করলে বিরোধিতার শিকার হতে হয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারকে। তখন সাধারণ কাশ্মীরী মুসলিমদের উপর দমনপীড়নের পাশাপাশি কাশ্মীরী নেতাদের উপরও সরকারের অন্যায্য গ্রেফতার ও মামলার খড়গ নেমে আসে। এতে মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমীর মতো ব্যক্তিত্বকেও ছাড় দেয়নি তারা।

গত বছর অক্টোবরে প্রতিটি স্কুল ও মাদরাসায় সকালে ক্লাস শুরুর আগে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে “রঘুপতি রাঘব রাজা রাম” সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করলে এরও বিরোধিতা করেছিলেন কাশ্মীরের এই শরীয়া আইন বিশেষজ্ঞ। তখনও তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিলো হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার। বিভিন্ন জমির দলিলপত্র ও মোবাইল সহ জরুরী জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিলো তারা।

উল্লেখ্য, মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমী ১৯৫৭ সালের ২২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর দারুল উলূম দেওবন্দ ও মুজাহিরুল উলূম সাহারানপুরে প্রধান মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি (রহ.) এর সান্নিধ্যে থেকে তাসাউফ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও ইজাজত লাভ করেন, যার বংশ পরম্পরা বিশিষ্ট সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী (রা:) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।

পরবর্তীতে তিনি তার জন্মভূমি কাশ্মীরে ফিরে আসেন। ১৯৭৯ সালে দেওবন্দের শিক্ষানীতির অনুসরণে বান্দিপোরা জেলায় কাশ্মীরের অন্যতম বৃহৎ মাদরাসা দারুল উলূম রহিমিয়া প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাসেমী অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য যা ভারতের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা।

দারুল উলূম দেওবন্দের ম্যানেজিং কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি। এছাড়া জমিয়ত উলামায়ে-হিন্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদও রয়েছে তার।

সূত্র: মুসলিম মিরর

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ