ভারতের হারিয়ানা রাজ্যের নূহ জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার সময় সেখানকার ১৩ টি মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় মসজিদগুলোর ভেতরে রাখা ইসলামি বইগুলো। এছাড়াও হামলা চালানো হয় তাবলীগ জামাতের সদস্যদের উপর।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর এমনটিই জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল।
সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রান প্রদান, বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ পরিচালনা, আইনি সমস্যার সমাধান ও মসজিদ সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
এ পরিকল্পনার মধ্যে আরও রয়েছে সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়কে সাহায্য করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রভাব কমাতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যে উদ্দেশ্যে তারা ত্রান কমিটি ও একটি জরিপ পরিচালনাকারী দল গঠন করেছে।
জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিনিধি দলটির অনুসন্ধানে দুঃখজনক কিছু বিবরণ উঠে এসেছে। যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও ধর্মীয় গ্রন্থে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি তাবলীগ জামাতের সদস্যদের লাঞ্ছিত করার বিষয়টি ও তাদের জরিপে উঠে এসেছে।
আজ পর্যন্ত জরিপ পরিচালনাকারী দলটি সর্বমোট ১৩ টি ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। যার মধ্যে পালোয়ার গ্রামের ৬টি, হোডাল গ্রামের ৩টি, সোহনা গ্রামের ৩টি মসজিদ রয়েছে। এছাড়াও গুরুগ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদ তারা পরিদর্শন করেছেন যেখানে একজন ইমামকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা হত্যা করে।
তবে যেসব ব্যক্তিরা মুসলিমদের বসতবাড়ি, মসজিদ, পবিত্র কুরআন অবমাননা, মসজিদের ইমাম ও তাবলীগ জামাতের সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছিল তারা আশ্চর্যজনকভাবে এখনো গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিনিধি দলটি।
এ প্রতিনিধি দলটি সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার নেতৃত্ব প্রদান করছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাকমুদ্দিন কাসমি। প্রতিনিধি দলটিতে আরো রয়েছে মাওলানা গায়ুর আহমেদ কাসমী, মাওলানা ক্বারী নওশাদ আদিল, ক্বারী আসলাম বুদেদভি এবং মাওলানা সাজিদ রাজোপুর।
এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচারের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মাওলানা ইয়াহিয়া করিমি, ক্বারী মুহাম্মদ আসলাম বুদেদভি, মুফতি মুহাম্মদ সেলিম সাকরাস এবং মাওলানা শের মুহাম্মাদ আমিনী ঘাসেরার মত ব্যক্তিরা।
হোদল গ্রামে অবস্থিত বাজারওয়ালি ও ঈদগাহওয়ালি মসজিদ পরিদর্শন কালে এই প্রতিনিধি দলটি অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেয়। কারন সেখানে তখনো উত্তেজনা বিরাজমান ছিল।
যাইহোক প্রতিনিধি দলটি একটি প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের বাসস্থান পুনর্নির্মাণ ও তাদের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর












