ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম বলেছেন, সারাদেশে পুলিশকে গ্রেফতার বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। নিরীহ নিরাপরাধ মানুষকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার গ্রেফতার বাণিজ্য করা হচ্ছে। এর সাথে পুলিশ ও সরকার দলীয় লোকজন জড়িত। কিন্তু জুলুম নির্যাতনের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেও সরকারের আখের রক্ষা হবে না। সরকারকে গণহত্যার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতেই হবে।
আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে ছাত্র ও যুবকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না, পারবেও না। জনতার রুদ্ররোষ ক্রমেই গণবিস্ফোরণে রূপ নিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব বাহিনী নামানো হয়েছে, থামাতে পারেনি। সব রকম নির্যাতনের পরও আন্দোলন বন্ধ করতে পারেনি। আন্দোলন বাড়ছে, আরও বাড়বে। ইসলামী আন্দোলন এবং সকল সহযোগী সংগঠন আন্দোলনকারীদের সাথে এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকারের পরাজয় না হয়।
মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, ৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনের ইতিহাস তারা বলে না। তখন তারা এক ভয়ঙ্কর শাসনব্যবস্থা উপহার দিয়েছিল জাতিকে। বাকশাল কায়েম করে জনগণের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছিল। ৭৫ এর খুনিদের বিচার হলে ২০২৪ এর খুনি শেখ হাসিনারও বিচার হবে। হাজার হাজার ছাত্র ও বাচ্চা খুন করেছে এই অবৈধ সরকার।
তিনি বলেন, আমরা নমরুদ, ফেরাউন, শাদ্দাদকে দেখিনি, কিন্তু আমরা শেখ হাসিনাকে দেখেছি কত ভয়ঙ্কর, কত খুনি, কত মিথ্যাবাদী, জালিম। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সভায় ওবায়দুল কাদেরকে সবাই ভুয়া ভুয়া বলে তিরস্কার করেছে। লজ্জা থাকলে কাদের জাতির সামনে মুখ দেখাতো না। আমাদের আন্দোলন মজলুমের পক্ষে, জালিমের বিরুদ্ধে। মজলুমের বিজয় হবেই, জালিমের পরাজয় খুব নিকটেই।
তিনি ছাত্র ও যুবকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আগের তুলনায় আরও শক্তি ও সাহস নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই অবৈধ জালিম সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর বলেন, আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববাসী এই হত্যার ভিডিও দেখেছে, সেখানে পুলিশ তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু এই জালিম ও খুনি ১৬ বছরের একটি বাচ্চাকে আবু সাঈদের খুনি হিসেবে গ্রেফতার করেছে। জুলুম ও মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা চাই।
ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর আরও বলেন, শেখ হাসিনা বলেন- আমাকে কেন বিদায় নিতে হবে, কে দেশ চালাবে? এই নির্লজ্জ সরকার লজ্জা থাকলে এমন কথা বলত না। এজন্য খুন ও নির্যাতনের পথে হাঁটছে সরকার।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, দুর্নীতিবাজ প্রমাণ হলে সংবিধান অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা যাদেরকে নিযোগ দিয়েছে এরা সবাই দুর্নীতিবাজ। শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হলে, শেখ হাসিনা কত কোটি টাকার মালিক? পিয়ন দুর্নীতিবাজ হলে মালিক দুর্নীতিমুক্ত কিভাবে? পুলিশের আইজি, সেনাপ্রধান, মতিউরসহ সবাই দুর্নীতিবাজ। কাজেই এই সরকারও দুর্নীতিবাজ সরকার। তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, এই আন্দোলন কেবল কোটার আন্দোলন নয়, এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন এখন সরাসরি এসব হত্যার বিচার চায়। ওই সব মন্ত্রী, যারা গুলির নির্দেশ দিয়েছেন, উসকে দিয়েছেন ছাত্রলীগকে, তাদের পদত্যাগ চায় দল থেকে এবং সরকার থেকে। প্রধানমন্ত্রী যাতে সব হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চান, শিক্ষার্থীরা সেই দাবি করেছেন। এগুলো মানতে হবে।










