ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর ও চরমেনাই পীর মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে, ফারাক্কার বাঁধ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে তামাশা খেলছে।
সোমবার (২৭ আগস্ট) সকালে বরিশালের চাঁদমারি এমসি অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতী রেজাউল করীম বলেন, দেশের জনগণ এক কঠিন সময় পার করছে। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের জুলুম, নির্যাতন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আমাদের বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশের ছাত্র সমাজ, দেশপ্রেমিক ইসলামপ্রিয় জনতা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। এখনো আহত অনেক ছাত্র-জনতা মেডিকেলের বেডে কাতরাচ্ছে। অপরদিকে দেশের এগারোটি জেলার জনগণ বন্যায় পানিবন্ধি হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তাদের থাকার জায়গা নেই, তারা খুবই করুণভাবে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল, কর্মীদেরকে বন্যাদুর্গত এলাকায় বানবাসী অসহায় মানবতার পাশে দাড়িয়ে সাধ্যনুযায়ী খেদমত করে যাচ্ছে। আমি আহ্বান করছি, দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলে এগিয়ে আসুন! যাতে বন্যাদুর্গত এলাকার অসহায় ভাই-বোন ও সন্তানদের প্রয়োজনীয় খাবার, ঔষধ, পোষাক ও মাথা গোজার ব্যবস্থা হয়।
আনসার বিদ্রোহ প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, বিগত ১৬ বছরে এই আনসারদের কোন দাবি-দাওয়া ছিলো না। এখন হঠাৎ করে এত দাবি কোথা থেকে এলো? আনসারদের অন্তরালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই সচিবালয় ঘেরাও করে উপদেষ্টাদের হেনস্তা করেছে, সচিবালয়ের কাঁচ ভাংচুর করেছে, গুলি করেছে। আনসারদের তো রাইফেল নেই, তাহলে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে গুলি কোথা থেকে এলো? এর জবাব নিতে হবে। যে কোন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র কঠোরহস্তে রুখে দিতে হবে। হঠাৎ করে এত দাবি-দাওয়া যারা নিয়ে আসে, বুঝতে হবে এর মধ্যে কোন আওয়ামী চক্রান্ত লুকায়িত আছে।
এরপর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়, মঙ্গলবার ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা বন্যাা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও সহায়তা নিয়ে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই যাবেন।
কর্মসূচীর রোডম্যাপ, প্রথমে তিনি সোনাইমুড়ী কামিল মাদরাসা আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। এরপর কানকিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সেনবাগ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ফেনীর ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া থানার প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন।
জেলা সভাপতি মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তৃণমূল দায়িত্বশীল সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ এবিএম জাকারিয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর সভাপতি প্রফেসর লোকমান হাকিম, জেলা সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মালেক কাফরা, নগর সহ-সভাপতি শেখ সামছুল আলম মিলন, জেলা সেক্রেটারী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা আবুল খায়ের, জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম্মাদ কাওছারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।










