ইনসাফ | নাহিয়ান হাসান
নিরপরাধ কাশ্মীরীদের হত্যা করে সন্ত্রাসী সাজাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক মৃতদেরকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার পুলিশের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, গত জুনে কাশ্মীরে ৩ জন কাশ্মীরী শ্রমিককে হত্যার পর মৃতদেরকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করে সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টার অপরাধে রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) ১ জন ভারতীয় সেনা ও তার ২ জন সহযোগীকে অভিযুক্ত করেছে ভারতীয় পুলিশ।
বিতর্কিত আইন প্রণয়ন করে ভারত জুড়ে করোনার লকডাউন শুরুর আগে থেকেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার, কাশ্মীরকে সম্পূর্ণভাবে অন্যান্য রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে ভারতের ইতিহাসকালের নজিরবিহীন সেনা সমাবেশ ঘটানো এবং ভারতীয় সেনা কর্তৃক জুনের সেই নিরপরাধ দিনমজুর কাশ্মীরীদের শহীদ হওয়ার ঘটনায় স্বাধীনতাকামী বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরীরা ক্ষোভে ফেটে পরেছিল।
ভারতীয় পুলিশ আল জাজিরাকে জানায়, হত্যা, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী সাজানোর অপচেষ্টা সহ আরো অন্যান্য অভিযোগে ভারতীয় সেনা সদস্য ক্যাপ্টেন ভূপেন্দ্র সিংহকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বর্তমানে সে সেনাবাহিনীর কারাগারে বন্দী রয়েছে।
তাছাড়া, ক্যাপ্টেন ভূপেন্দ্র সিংহের বাকি দুই সহযোগীকে পুলিশের কাছে আটক রাখা হয়েছে বলেও জানায় ভারতীয় পুলিশ।
গত রবিবার জারি করা বিবৃতিতে ভারতীয় পুলিশ উল্লেখ করে, ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীদের সাথে প্রচণ্ড গোলাগুলির পর তাদের হত্যা করা হয়েছে বুঝাতে অভিযুক্ত সেই সেনা ও তার সঙ্গীরা নিরপরাধ দিনমজুর সেই ৩ কাশ্মীরীকে শহীদ করার পর তাদের মৃতদেহে অবৈধ অস্ত্র সহ অন্যান্য অস্ত্র সরঞ্জাম সাজিয়ে রেখে দেয়।
নিরপরাধ কাশ্মীরীদের শহীদ করার পর সবচেয়ে জঘন্য যে কাজটি করে তারা, তা হল, মৃতদের পরিচয় গোপন করতে মুখ থেতলে দেওয়া এবং পরিবারকে লাশ হস্তান্তর না করে এলওসি সীমান্তের একপার্শ্বে তা পুঁতে ফেলা!
শহীদ হওয়া সেই ৩ কাশ্মীরীদের চেহারা থেতলে দিয়ে লাশ গুম করে ফেলায় তাদের পরিবার বহুদিন যাবত তাদের হদিস পাচ্ছিলেন না। নিখোঁজের ১ মাস পর ভারতীয় সেনা কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৩ জন কাশ্মীরীর শহিদ হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি সহ ছড়িয়ে পরলে শহীদদের পরিবার ছবি দেখে তাদের পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
অপরদিকে সেই ৩ কাশ্মীরীকে শহীদ করার ঘটনায় প্রথমে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও পরবর্তীতে, গত সেপ্টেম্বরে স্বয়ং ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বীকারোক্তিমূলক বলেছিল যে, ভারতীয় সেনারা এএফএসপিএ (বেসামরিকদের হত্যার ক্ষেত্রে সেনাদের দায়মুক্তির বিশেষ ক্ষমতা) আইনের আওতায় বেসামরিক হত্যার ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে পরেছে।
দখলকৃত জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরির বাসিন্দা জাভেদ আহমদ (২৫) বলেন, শহীদ হওয়া ৩ জন কাশ্মীরীর মধ্যে একজন হল আমার আপন ছোট ভাই আবরার আহমদ এবং বাকি দুজন আমার চাচাতো ভাই।
আল জাজিরাকে তিনি জানান, ন্যায়বিচারের খোঁজে তারা শান্তি ও ঘুম দুটোই হারিয়েছেন। ন্যায়বিচার আদৌ পাবো কিনা তাও জানি না। তাছাড়া, পরিপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। বর্বরোচিত হত্যার সঠিক তদন্ত করে আমাদের অবশ্যই সত্যিটা জানাতে হবে যে, কি কারণে আমরা আমাদের পরিবারের ৩ জন তরুণ সদস্যকে হারালাম।
সূত্র: আল জাজিরা












