বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

গাজ্জায় আরও ৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইল; ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অনেকে

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজ্জা উপত্যকায় লাগাতার হামলা চালিয়ে এক দিনে আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। এর মধ্যে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে। এছাড়া অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও ৮ জন।

আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটির বরাতে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট গাজ্জা শহরে শুরু করা ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনে জেতুন ও সাবরা মহল্লায় এক হাজারেরও বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।

সংস্থাটি জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও শত শত মানুষ চাপা পড়ে আছে।

গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সিভিল ডিফেন্স জানায়, টানা গোলাবর্ষণ ও অবরুদ্ধ সড়কের কারণে অধিকাংশ এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। অসংখ্য মানুষের নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু জরুরি কর্মীরা সাড়া দিতে পারছেন না। এদিকে হাসপাতালে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইসরাইলের চলমান আগ্রাসন আরও গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। ময়দানে থাকা দলগুলোর সক্ষমতা এত সীমিত যে তারা এ ধরনের ভয়াবহ হামলার মোকাবিলা করতে পারছে না। গাজ্জার কোথাও নিরাপদ এলাকা নেই, উত্তর থেকে দক্ষিণ, সবখানেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র এমনকি ত্রাণ শিবির পর্যন্ত বোমা বর্ষণ চলছে।

গাজ্জা শহর পুরোপুরি দখলে নিতে ইসরাইলি সেনারা ট্যাংক নিয়ে সাবরা এলাকায় প্রবেশ করেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণ দিকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বহু মানুষের আশঙ্কা সত্যি করছে যে, ইসরাইল পুরো গাজ্জা শহর ধ্বংস করতে চাইছে, যেমনটি তারা রাফাহ শহরে করেছিল।

অধিকারকর্মীরা বলছেন, এর লক্ষ্য হতে পারে গাজ্জা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে উৎখাত করা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপুষ্টি ও অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে, এর মধ্যে ১১৫ জন শিশু। দখলদার সেনারা নিয়মিত গুলি চালাচ্ছে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের দিকে। মূলত ইসরাইল ও আমেরিকা-সমর্থিত বিতর্কিত জিএইচএফ কেন্দ্রগুলো থেকে সামান্য সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করার সময়ও ইসরাইলের হামলার মুখে পড়ছেন তারা।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ