বাংলাদেশে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের। দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারে পচছে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ। কিছু পেঁয়াজের দাম নেমেছে মাত্র দুই রুপিতে, তবুও মিলছে না খদ্দের।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের শীত মৌসুমে পেঁয়াজের পাইকারি দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশসহ প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ থাকায় পুরো বাজারে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
গাজিপুর পাইকারি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী পারমানন্দ সাইনি জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ, বেঙ্গালুরু—সব জায়গা থেকে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ দুই থেকে সর্বোচ্চ ১৩ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
সাইনির কথায়, কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তাদের কমিশন চার্জ দিতে হচ্ছে, আবার উৎপাদন খরচও মেটাতে হচ্ছে। এক বস্তা ৫০ কেজি ছোট পেঁয়াজের দাম ১০০ রুপি, সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ১২০ রুপি। এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে কৃষকের সাধারণ খরচও ওঠে না।
আরেক ব্যবসায়ী সচ্ছা সিং অভিযোগ করেন, সরকারি সংস্থাগুলো এমন সময় আগের মজুত করা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছে, যখন উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত এক বছর ধরে বন্ধ। ফলে বাজারে জমে আছে পণ্য, কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত—আমরাও সমস্যায় পড়ছি। কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতেই হয়, কিন্তু সেই পেঁয়াজ দ্রুত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
পণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ লোকেশ গুপ্ত বলছেন, সরকারের উচিত বেসরকারি ও সরকারি সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট মজুতসীমা নির্ধারণ করা, যাতে অযথা মজুতদারি বন্ধ হয়। তাঁর মতে, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। এক দেশের সঙ্গে রপ্তানি বন্ধ হলে যেন অন্য দেশে সরবরাহ করা যায়।
তিনি আরও প্রস্তাব দেন, ভারতীয় কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা এনএএফইডি’র বিদেশে শাখা খোলা উচিত। বাংলাদেশ ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
রপ্তানি বাজার হারানোর কারণ হিসেবে লোকেশ গুপ্ত বলেন, বাংলাদেশ আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ কিনতো। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ নিজস্ব উৎপাদন রক্ষা ও কৃষকদের স্বার্থে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ রেখেছে। একইভাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন ও ইরান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পেঁয়াজ কিনছে এবং নিজেদের উৎপাদনও যথেষ্ট।
ভারত ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং সম্পূর্ণ বন্ধের মতো বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ছয় মাসের জন্য পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ ছিল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বাজার হারাচ্ছে ভারত। অবৈধভাবে পেঁয়াজ বীজ রপ্তানির ফলে কিছু ঐতিহ্যবাহী ক্রেতা দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভারতের বাজার দখল করছে।









