আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ-২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। একই সাথে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ২২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। ফাহিম ফারুকী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জুলাই গণআন্দোলনের সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের মাধ্যমে দেশে বাকশালী মুজিববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। আওয়ামী লীগ যে পরিমাণ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, একই অপরাধের দায় জাতীয় পার্টিকেও নিতে হবে। বিচারের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও তাদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনো বন্ধ করা হয়নি। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী বা বাকশালী রাজনৈতিক শক্তির রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত প্রতিটি প্রহসনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই ভূমিকা পালন করেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণে জড়িত কোনো দল বা জোট জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহিম ফারুকী আরও বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায়ও জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে দলটি দীর্ঘদিন ধরেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত।
মঞ্চ-২৪ জানায়, জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের গণহত্যায় সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারকে এরই মধ্যে দুই দফা উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি নোটিশ দিয়েছে এনসিপির এক নেতা এবং অন্যটি দিয়েছে জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির দাবি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।











