আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসন ও নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমঝোতায় ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, বিভিন্ন বিরোধী আন্দোলন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে প্রতিবাদী জনতার ওপর হামলা এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। তিনি বলেন, এসব শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যা আন্দোলনকারীদের ভাষায় ৩৬ জুলাই, সেই গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতার স্বাদ ও সফলতার অভিজ্ঞতা লাভ করে। তিনি বলেন, সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন এবং নির্বাচনী ঐক্যের ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, এই রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা, অভিপ্রায় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে দলগুলো অনেক আগেই একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি বাস্তবায়নকে অভিন্ন লক্ষ্য ধরে ধাপে ধাপে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথপরিক্রমার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ১১টি দল এবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অলি আহাম্মদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।











