সিরিয়ায় মজলুমদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তুরস্ক গত ১৩ বছর ধরে অপবাদ, চাপ ও শত্রুতাপূর্ণ নানা বক্তব্যের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেন, মজলুমদের পাশে থাকা, মুসলিম হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং প্রতিবেশীর হক রক্ষার পথে অবিচল থাকার ফল আজ স্পষ্ট হচ্ছে।
এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় জালিম শাসনের পতনের পর দেশটি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। দখল করা এলাকা থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সিরিয়ার উত্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাস হুমকি পুরোপুরি দূর হলে শুধু সিরীয় জনগণ নয়, পুরো অঞ্চল স্বস্তি পাবে।
ইসলামি ভ্রাতৃত্বের যৌথ কল্যাণের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উসকে দেওয়া ফেতনার আগুনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তুরস্কের আয়দিন শহরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এরদোগান বলেন, “তারা বলেছিল, ‘তুরস্ক একঘরে হয়ে যাচ্ছে।’ তারা বলেছিল, ‘তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে।’ এমনকি তারা আমাদের দেশকে ‘দায়েশ সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করার’ অভিযোগও করেছে। এখন শেষ পর্যন্ত কী হলো? সিরিয়ায় জালিম শাসনব্যবস্থা পতন হলো, জুলুমের অবসান হলো। প্রায় ১০ লাখ সিরিয়ানদের রক্ত যার হাতে, সেই শাসনের বদলে তুরস্কের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ একটি সরকার এলো। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাআ’র দৃঢ় নেতৃত্বে, আমাদের দেশের শক্ত সমর্থনে সিরিয়া এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের সংঘাতের পর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আবার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দখল করে রাখা জায়গাগুলো থেকে সিরীয় সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে তাদের বের করে দিচ্ছে।”
এরদোগান বলেন, “আগের শাসনামলে নাগরিক বলেও গণ্য করা হতো না এমন আমাদের কুর্দি ভাইয়েরা নতুন সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে, তাদের অধিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তুর্কমেন ভাইয়েরাও একইভাবে নতুন প্রশাসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছে। দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও আরও দৃঢ় সংকল্পের পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। আমাদের অঞ্চলে সব ধরনের সন্ত্রাসের শেকড় আলহামদুলিল্লাহ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশের জন্য যেসব সমস্যা উদ্বেগের কারণ ছিল, সেগুলো একে একে সমাধানের পথে এগোচ্ছে। ইতিহাসের সঠিক পক্ষে অবস্থান নেওয়া, মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন ও প্রতিবেশীর হক রক্ষা করার ফল আমরা আলহামদুলিল্লাহ আজ হাতে হাতে পাচ্ছি। হালাব, হামা, হোমস, আফরিন ও ইদলিবে লাখো লাখো মানুষ আনন্দের সাথে তুর্কি ভাষায় কথা বলছে, তুরস্ককে নিয়ে কথা বলছে। তারা আমাদের জন্য খায়েরের দোয়া করছে। ইনশাআল্লাহ আরও অনেক ভালো হবে।”
এরদোগান আরও বলেন, “সিরিয়ার উত্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাস হুমকি পুরোপুরি দূর হয়ে গেলে শুধু সিরীয় জনগণ নয়, আমাদের পুরো অঞ্চল স্বস্তি পাবে। সিরিয়া যখন এই অঞ্চলে কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার দ্বীপে পরিণত হবে, তখন আমরা সবাই এর সুফল পাব। একক ও নিরাপদ সিরিয়ার লাভবান হবে আরব, তুর্কমেন, কুর্দি, নুসাইরি, দুরুজ, খ্রিস্টান এবং সিরিয়ার অন্যান্য সব নাগরিক। এর জন্য আগে ৮ কোটি ৬০ লাখ হয়ে আমরা একে অপরের সাথে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হব। আমরা এক হব, বড় হব, দৃঢ় হব, ভাই ভাই হব। আমরা সবাই মিলে তুরস্ক হব।”
ইসলামি ভ্রাতৃত্বের যৌথ কল্যাণের জায়গায় অঞ্চলের জনগণের সাথে একত্রিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল ও শান্তভাবে চলবেন, কোনো ফাঁদে পা দেবেন না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উসকে দিতে চাওয়া ফেতনার আগুনের বিষয়ে সজাগ থাকবেন। তিনি বলেন, মেরুকরণ ও দলাদলি নিজেদের জন্যও এবং অঞ্চলের জন্যও কষ্ট ছাড়া আর কিছু বয়ে আনে না; জাতিগত পরিচয় ও মাযহাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নিজেদের ভূখণ্ডে শুধু বিষাদ ও অশ্রুই ডেকে আনে।
সূত্র : আনাদোলু











