ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকীর সঙ্গে কাবুলে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি নির্মাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি রোজমেরি ডিকার্লো। বৈঠকে ইমারাতে ইসলামিয়া ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পৃক্ততা জোরদার, পারস্পরিক সমন্বয়, এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন দোহা প্রক্রিয়ার চলমান আলোচনা ও ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলকে দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে নেওয়া উদ্যোগ এবং ফিরে আসা অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, ইমারাতে ইসলামিয়া যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো ইতিবাচক।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেসরকারি খাতকে সহায়তা করতে এবং মানবিক সহায়তা ঠিকভাবে পৌঁছাতে হলে ব্যাংক লেনদেনের ওপর থাকা বাধা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদও মুক্ত করতে হবে। তাহলেই দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকদ্রব্যের চাষ ও পাচার রোধে ইমারাতে ইসলামিয়ার কঠোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, আফগানিস্তানের বাইরে অঞ্চলের কোথাও মাদক উৎপাদন ও চাষ ঠেকানো না গেলে, এর ক্ষতি অতীতের মতো আবারও শুধু আফগানিস্তান নয়, গোটা অঞ্চল ও বিশ্বকে ভোগাতে পারে। মাদক চাষ রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কিছু এলাকায় বিকল্প চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি নির্মাণ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি রোজমেরি ডিকার্লো আফগানিস্তানে ইতিবাচক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে তিনি বিপুল সংখ্যক ফিরে আসা মানুষের ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন খাতে সংস্কার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় দোহা প্রক্রিয়ার অধীনে মাদকবিরোধী উদ্যোগ ও বেসরকারি খাত সহায়তা বিষয়ক দুটি ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংলাপের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ডিকার্লো।
তিনি জানান, মানবিক সহায়তা আফগান জনগণের জন্য অত্যন্ত জরুরি, এবং এটি নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। বৈঠকে দেশের বাইরে জাতিসংঘের কিছু প্রতিষ্ঠানের আটকে থাকা মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছাতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, এবং এসব সহায়তাকে আফগান জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় বলা হয়েছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈঠক আরও বাড়ানো, নিয়মিত সম্পৃক্ততা জোরদার করা এবং সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আশা প্রকাশ করে।
রোজমেরি ডিকার্লো শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরের দিকে কাবুলে পৌঁছান। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মানবিক প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সংলাপ সমন্বয় করতে জাতিসংঘের চলমান উদ্যোগের মধ্যেই তার এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











