ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম, অতীতে বিএনপি ও জামায়াত সরকার পরিচালনা করলেও মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও নীতির উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারে জোর না দিলে প্রকৃত উন্নয়ন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না। নির্বাচনী জনসভায় তিনি হাতপাখায় ভোট চেয়ে দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও করেন।
চরমোনাই পীর, “আমি আপনাদের কাছে হাতপাখার ভোট চাইতে এসেছি। অনেক আশা নিয়ে ইসলামপন্থার পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা গেলো, জামায়াত ইসলামের নীতি আদর্শ বাস্তবায়ন করা প্রতিজ্ঞা থেকে সরে আসছে তখন ইসলামের স্বার্থে আমাদের একক পথচলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আল্লাহর রহমতে আমরা একা নই। দেশের সর্বস্তরের জনতা ও উলামায়ে কেরাম আমাদের সাথে আছে।”
আজ (২৫ জানুয়ারি) রবিবার ময়মনসিংহে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর। আয়োজকের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সমর্থনে ফুলবাড়িয়ায় এবং ময়মনসিংহ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপকের সমর্থনে ময়মনসিংহ শহরের কৃষ্ণচূড়া চত্তরে পৃথক কর্মসূচিতে তিনি বক্তব্য দেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “অতিতে বিএনপি ও জামায়াত সরকার পরিচালনা করেছে কিন্তু তাদের মাধ্যমে মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয় নাই। বরং দুর্নীতিতে দেশ চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আল্লাহর রহমতে জনগণ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয় তাহলে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে ইনশাআল্লাহ। জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক প্রার্থী নানারকম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু কেউ নীতির উন্নয়নের কথা বলেন না। সংসদ সদস্যরা যদি সংসদে সঠিক নীতি প্রণয়ন করেন এবং সেই নীতির বাস্তবায়নে শাসনবিভাগকে জবাবদিহিতায় বাধ্য করেন তাহলে উন্নয়ন দেশের সকল নাগরিকের কাছে এমনিতেই পৌঁছে যাবে। তাই বস্তুগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে নীতির উন্নয়নের কথা বলুন।”
চরমোনাই পীর বলেন, “বিগত ৫৪ বছরে অনেক উন্নয়নের কথা জাতি শুনেছে কিন্তু সেসব উন্নয়নের পেছনে ছিলো দুর্নীতির মচ্ছব। খুন-গুম ও টাকা পাচার করে দেশকে দিনকে দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই দেশের কাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতি উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন আহমদ প্রমূখ।











