প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে রাশিয়া ও ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মাঝে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তলো নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী ভাসিলি ওসমাকভ ও আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কৌশল ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ক উপমন্ত্রী মুহাম্মদ কাসিম ফরিদের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার ও নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
আফগান প্রতিরক্ষা মুখপাত্র সাদিকুল্লাহ নুসরাত জানান, বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব, আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়।
তিনি বলেন, “এই বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ প্রতিরোধের উপায়সহ বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে। পাশাপাশি সম্পর্ক জোরদার, আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টেকসই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।”
রুশ গণমাধ্যম তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী ভাসিলি ওসমাকভ আফগান ইমারাত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি পারস্পরিক আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ কাঠামোবদ্ধ ও ধারাবাহিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, “দুই পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোতে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত ও পদ্ধতিগত সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় যৌথ পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।”
আফগান সামরিক বিশ্লেষক ইউসুফ আমিন জাজাই বলেন, “আমাদের নীতি হলো নিরপেক্ষতার। এই নীতির ভিত্তিতেই আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। তবে অনেক দেশ এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে না। যা আমাদের সামরিক সহযোগিতা বিষয়ে বিবেচনা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের দিকে বাধ্য করে।”
উল্লেখ্য, রাশিয়া আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ।৷ স্বীকৃতির কয়েক দিন পূর্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আফগানিস্তানের আঞ্চলিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও কাবুলের মধ্যে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।











