মঙ্গলবার | ৩ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মুসলিমবিরোধী বক্তব্য: সুপ্রিম কোর্টে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রিট

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে গুরুতর ঘৃণাত্মক, সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের স্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত রিট দাখিল করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।

সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি রিটটি দাখিল করেন। রিটে বিশেষভাবে গত ২৭ জানুয়ারি দেওয়া আসামের মুখ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চার থেকে পাঁচ লাখ “মিঞা” ভোটারকে নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ও তার দল “সরাসরি মিঞাদের বিরুদ্ধে”।

রিটে বলা হয়েছে, আসামে মুসলমানদের ক্ষেত্রে “মিঞা” শব্দটি তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও অপমানজনক অর্থে ব্যবহার করা হয়। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু একটি উচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত, তাই তার এ ধরনের বক্তব্যকে শুধু মতামত প্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এ বক্তব্যের উদ্দেশ্য একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, শত্রুতা ও বিদ্বেষ উসকে দেওয়া।

রিটে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সামষ্টিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়। যা একটি সাংবিধানিক পদের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টের কাছে সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যের জন্য কঠোর আচরণবিধি নির্ধারণের আবেদনও জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এমন আচরণবিধির মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে যাতে কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক পদের আড়ালে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো, উসকানি দেওয়া বা কোনো সম্প্রদায়কে বদনাম করার সুযোগ না পায়। এতে সেই নীতিও আরও দৃঢ় হবে যে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আর এ ধারণাই আইনের শাসনের ভিত্তি।

রিটে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বক্তব্য ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত সমতা, ভ্রাতৃত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানব মর্যাদার নিশ্চয়তাকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। পাশাপাশি বলা হয়, ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ সম্পর্কিত স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক।

সংগঠনটি জানায়, এ রিটটি সুপ্রিম কোর্টে আগে থেকেই বিচারাধীন ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননার বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ১২৬৫ অব ২০২১ মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মামলাটির চার বছরের শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছে। রায় ঘোষণার আগে আদালত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সিনিয়র আইনজীবী এম আর শামশাদ এবং অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড ফারুখ রশীদের কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত চেয়েছে। এর মধ্যে দেশে ঘৃণাত্মক বক্তব্য রোধে কার্যকর ও বাস্তব পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়ও রয়েছে।

রিটের প্রেক্ষাপটে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বক্তব্য হলো, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট দেশে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা বৃদ্ধি, সাংবিধানিক পদগুলোর অপব্যবহার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বৈষম্যমূলক আচরণসহ গুরুতর ইস্যুগুলোর সাংবিধানিক ও আইনগত দিক নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ