বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

রমজানকে মুনাফা তোলার মাস বানাবেন না : প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পবিত্র মাহে রামাদ্বানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করা যাবে না। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আত্মশুদ্ধির মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়; অথচ রামাদ্বানকে ঘিরে অনেকের মধ্যে অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা দেখা যায়, যা পরিহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রামাদ্বানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না।”

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণে তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সারা দেশে পবিত্র মাহে রামাদ্বান শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে রামাদ্বানের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “রামাদ্বান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়।”

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন।” তিনি আরও বলেন, “হাজারও প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে, রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।” সরকার সবক্ষেত্রে অনাচার-অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি “সহজ এবং স্পষ্ট”। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, সে বিষয়ে “যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ” শুনতে সরকার প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ক্রেতা বিক্রেতা গ্রহীতা, এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার।”

রামাদ্বান মাসে সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, রোজাদাররা বিশেষ করে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। তিনি জানান, “এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি।”

অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অপচয় রোধ করে কৃচ্ছতা সাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।” অফিস-আদালতে অপ্রয়োজনে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি খরচের বিষয়ে সচেতন থাকা “ইবাদাতের অংশ” বলেও তিনি মনে করেন।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ