ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকার স্ত্রী বা সন্তানকে প্রহার করার অনুমতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, আফগানিস্তানের নতুন আইনে স্পষ্টভাবে পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানের এই আইনে পরিবারের সুরক্ষা, নারী ও শিশুর মর্যাদা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়, আফগান সরকার নাকি স্ত্রী বা সন্তানকে প্রহার করার অনুমতি দিয়েছে। তাদের এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং কোনো সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।
বাস্তবতা হলো আফগানিস্তানে নতুন একটি আইন জারি করা হয়েছে, যেখানে স্ত্রী বা সন্তানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বাধ্য থাকবে।
ইমারাতে ইসলামিয়ার জারি করা এ আইনে পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নারী ও শিশুর মর্যাদা রক্ষা করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা বা সীমালঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।
সংবাদ প্রকাশের আগে বিভ্রান্তি ছড়ানো, অবিশ্বস্ত তথ্য প্রচার বা গুজব রটানো থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমকে যথাযথ তথ্য যাচাই ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা পালনের আহ্বান জানিয়েছে আফগান সরকার।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রণীত আইনগত কাঠামোর লক্ষ্য হলো শরিয়াহর দিকনির্দেশনার আলোকে আফগান সমাজে পারিবারিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। তারা বলেন, এই আইন কোনো ধরনের শিথিলতা ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং অপরাধমূলক আচরণ প্রতিরোধ করা যায়।
এ ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র হলো সরকারি ঘোষণাসমূহ ও অনুমোদিত মাধ্যমে প্রকাশিত আইন। তাই আল-হাদাস ও অনুরূপ চ্যানেলগুলোর প্রচারিত গুজব বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের পেছনে না ছুটতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: হুরিয়াত রেডিও











