বৃহস্পতিবার | ২৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

পাকিস্তান ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের সহায়তা চাইল আফগানিস্তান

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তিনি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং দাঈশ যোদ্ধাদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নানগারহার ও পাক্তিকায় চালানো হামলাগুলো ছিল লজ্জাজনক কাজ এবং পাকিস্তানকে এর জবাব পেতেই হবে। তবে পরিকল্পিত পাল্টা জবাবের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুজাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নানগারহারে ২২ সদস্যের একটি পরিবার বিমান হামলার শিকার হয়; এতে ১৭ জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। পাক্তিকায় শিশুদের একটি স্কুলে হামলা চালানো হয়। এতে এক শিশু আহত হয় এবং কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, “সেখানে কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল না। কেবল বেসামরিক লোকজন আহত ও নিহত হয়েছে এবং বেসামরিক এলাকাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু এলাকায় দাঈশের সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আফগানিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়ার অভিযানের পর আফগান ভূখণ্ডে দাঈশকে নির্মূল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুজাহিদ ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে অঞ্চলে অস্থিরতা ও অনিরাপত্তা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের একটি নির্দিষ্ট সামরিক চক্রকে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে কাবুলের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যাগুলো তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপারের পথগুলো মাসের পর মাস ধরে অধিকাংশ সময় বন্ধ রয়েছে।

মাওলান মুজাহিদ প্রতিবেশী ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতি পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলের জন্যই কল্যাণকর।

তিনি বলেন, “আমরা চাই সব দেশ আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করুক এবং এটিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করুক, যাতে আমরা অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আঞ্চলিক ও ইসলামী দেশগুলো তাদের দায়িত্ব অনুধাবন করুক এবং পাকিস্তানকে তাদের নীতি পরিবর্তনে রাজি করাক। এমন ঘটনা যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য দেশগুলো তাদের প্রভাব ব্যবহার করা উচিত।”

উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও মুজাহিদ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে “অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই দেশ, যাদের বহু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে” বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, কাবুলকে দোষারোপ না করে ইসলামাবাদের উচিত নিজেদের নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ