দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যেই ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এতে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সরবরাহ সূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন এ চালান পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক চুক্তি অনুযায়ী ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে। জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জাহাজটিতে থাকা ১০ হাজার টন ডিজেল দেশের বিদ্যমান মজুতে যুক্ত হবে এবং আমদানি করা এ ডিজেল পরিবহন ও শিল্পখাতে ব্যবহার করা হবে। আর ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে প্রায় দুই লাখ টন ডিজেল মজুত ছিল।
ইউসুফ হোসেন আরও বলেন, চলতি মাসে এটি নবম তেলবাহী জাহাজ, যদিও মোট ১৭টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে এবং বাকি কয়েকটির সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। বিপিসির হিসাবে, দেশের ডিপোগুলোতে থাকা মজুত তেল ও পাইপলাইনে থাকা জ্বালানির মাধ্যমে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জেট ফুয়েলের দাম এক দফায় প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা নতুন করে বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেছেন, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিপিসি সাধারণত সরকার-টু-সরকার চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে। বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি অংশ অপরিশোধিত অবস্থায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, আর বাকিটা পরিশোধিত অবস্থায় ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়।
সূত্র : বাসস










