জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়া পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনাকে ‘যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ, ম্যাসাকার ও গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধে তাদের কেউ নিহত, কেউ আহত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দিতে জারি করা অধ্যাদেশ আগামী বুধবার (২ এপ্রিল) বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন ও পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছে যে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে কিনা এবং তারা বিভিন্ন দাবি করছে। আমি সেই বিষয়ে আরেক অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, রাজাকার হত্যার বিরুদ্ধে, যদি কেউ মামলা নিয়ে আসে? অভ্যুত্থানকারীদের ওপর, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে; কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানেই ফয়সালা হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটি আমরা আগামী ২ এপ্রিল সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন ও পাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি আগামী ২ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। তিনি বলেন, “আমরা জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ পার্লামেন্টে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।”
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কিছু মামলার রায় হয়েছে, যা দেশবাসী সরাসরি টেলিভিশনে দেখেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা অন্যান্য আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এ দেশের প্রতিটি গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
এদিকে, সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুলিশকে একটি সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, অপরাধ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অনলাইন জিডি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের দেশে-বিদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিডিএমএস ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ ও মামলা মনিটরিং কার্যক্রমও আরও জোরদার করা হয়েছে।










