জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার জন্য আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও স্পিকারের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের আনা এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবার (৩০ মার্চ) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, এ বিষয়ে তিনি মাগরিবের বিরতির পর সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে রাত সোয়া ৮টায় সংসদের বৈঠক মুলতবি হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। মঙ্গলবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
এর আগে গত রোববার বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন। যা আগামীকাল মঙ্গলবার আলোচনার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল যখন জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তাব তোলেন, তখন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গত ২৯ তারিখ বিরোধী দলীয় নেতার একটি নোটিশ গৃহীত হয়েছে এবং সেটির আলোচনার সময়ও ঠিক করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী একই বিষয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ নেই। তাই এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা গেল না।
ডেপুটি স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারেননি মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ দুই সদস্য। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, দুই সদস্যের প্রস্তাব দুটি আলাদা বিষয়। রোববারের প্রস্তাবটি ছিল শুধু ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়ে, আর আজকেরটি সরাসরি ‘জুলাই সনদের’ ওপর। দুটির প্রশ্ন সম্পূর্ণ আলাদা এবং এটি পৃথক আলোচনার দাবি রাখে। প্রয়োজনে দুটি প্রস্তাব নিয়ে একসঙ্গেই আলোচনা হতে পারে।
একই যুক্তি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কী প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে স্বতন্ত্র সদস্য মুলতবি প্রস্তাব দিয়েছেন। আর রোববারের প্রস্তাব ছিল বাস্তবায়ন আদেশের ওপর। দুটো আলাদা জিনিস। স্পিকার যদি এটি গ্রহণ করেন, তবে আলাদা দিনে আলোচনা হতে পারে।
মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার পুনরায় জানান, তিনি নোটিশটি আরও গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর মাগরিবের বিরতির পর সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা থাকলেও অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।










