spot_img
spot_img

কওমি সনদের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি দেওনা পীরের

কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান চৌধুরী দেওনা পীর বলেছেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা একটি বিশেষায়িত শিক্ষা। আধুনিকায়নের নামে যারা পরিমার্জন করতে চায়, তারা মূলত এ শিক্ষাকে একটি সনদ সর্বস্ব শিক্ষা বানাতে চায়। কওমি শিক্ষা থেকে হাফেজ আলেমগণের বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানে বিশাল সুযোগ রয়েছে যা অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় নাই। দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স কওমি হাফেজ আলৈমগণের দ্বারা অর্জিত হয়। কওমি শিক্ষাব্যবস্থার স্বকীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কওমি শিক্ষক পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান ধারক হিসেবে কওমি মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাই কওমি সনদের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দেওনা দাওয়াতুল হক মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, কওমি শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে ধর্মীয় শিক্ষার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কওমি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী ও মুফতী নজরুল ইসলামের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ভারতের উত্তরাখণ্ডের সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মাসউদ মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শিব্বির আহমদ রশিদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা লুৎফর রহমান ফরায়েজী, মুফতী রেজ‌ওয়ান রফিকী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ, এডভোকেট মতিউর রহমান, মুফতী ইমরনুল বারী সিরাজী প্রমুখ।

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দেশের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা সমাজের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসায় প্রদত্ত দান ও অনুদানকে আয়করমুক্ত রাখা প্রয়োজন। কারণ, এ ধরনের অনুদান জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয় এবং রাষ্ট্রের সামাজিক উন্নয়নে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। দানকারীদের উৎসাহিত করতে এ খাতে কর অব্যাহতি প্রদান যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নবী-রাসূল ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচরিত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত। এসব বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং তা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতির বিস্তার উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে এমন কিছু চর্চা বাড়ছে, যা আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়ছে।এজন্য অপসংস্কৃতি রোধ কল্পে এবং ইসলামী সংস্কৃতি বিস্তার করনার্থে সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি জানান।

তারা বলেন, অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং শিক্ষার মাধ্যমে সঠিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ