বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (একাংশ)-এর প্রধান আমীরে শরিয়ত মাওলানা আবু জাফর কাসেমী বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার শাপলা চত্বরে রাতের গভীরে হেফাজতে ইসলামের ঘুমন্ত, তাহাজ্জুদ ও জিকিররত নিরীহ কর্মীদের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে শহীদ করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা গণহত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আবু জাফর কাসেমী বলেন, গত ১৩ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি। আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট এই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শাপলা চত্বর গণহত্যার বিচার, ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়ন এবং হেফাজত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন আকন্দের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরিয়ত মাওলানা আবু জাফর কাসেমী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকার শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়ে শত শত হেফাজত নেতাকর্মীকে শহীদ করেছে। আর আমাদেরকে দিয়ে বলিয়েছে, শাপলা চত্বরে কেউ মারা যায়নি। আমি তিনজন শহীদের জানাজা পড়েছি এবং কবর দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা খুনি হাসিনাসহ সব আসামির ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
মুফতি ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে ৫ মে হেফাজতে ইসলামের পাশে ছিলেন, আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিচার কার্যকর করার মাধ্যমে তাকেও হেফাজতে ইসলামের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার যদি হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের শহীদদের বিচার না করে, তাহলে তা হবে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে মহা গাদ্দারি। দেশের সাধারণ জনগণ শাপলা চত্বরের শহীদদের বিচার না হলে গণআন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, মাওলানা ইবরাহীম বিন আলী, মুফতি আসাদুল্লাহ জাকির, মাওলানা তোফায়েল আহমাদ, মাওলানা মনিরুজ্জামান, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ, যুব আন্দোলন নেতা মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা ও মাওলানা আশিকুর রহমান প্রমুখ।











