ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সৌন্দর্য তুলে ধরতে নতুন করে শিল্পচর্চায় এগিয়ে আসছে দেশটির মেয়েরা। প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ। তাদের এই উদ্যোগ শুধু সৃজনশীলতার প্রকাশ নয়, বরং সহনশীলতা, শান্তি ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠছে।
আফগানিস্তানের হেরাতে একটি শিল্পকেন্দ্র ৮০ জনেরও বেশি মেয়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্পচর্চা করার সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের কাজের মাধ্যমে তারা আফগানিস্তানের সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, শিল্প শেখা তাদের একাকীত্ব ও মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।
শিক্ষার্থী মরিয়ম রাসৌলি বলেন, “শিল্পের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা, শান্তি ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছি।”
অন্য এক শিক্ষার্থী মরিয়ম মাহবুব বলেন, “আমরা আমাদের দেশের সেই সভ্যতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই- যে সভ্যতা দীর্ঘদিন ধরে বিস্মৃত হয়ে আছে।”
এই কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্রচিত্র অঙ্কন, চারুকলা ও ক্যালিগ্রাফিসহ বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে কাজ করছে।
শিল্পকর্মশালার প্রধান মারিয়া সামার আরবাবজাদা বলেন, “মেয়েরা বিভিন্ন শৈলীতে কাজ করছে, যার মধ্যে কাঠ ও মাটির পাত্রে চিত্রাঙ্কন এবং ক্ষুদ্রচিত্র শিল্প অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এই কেন্দ্রে মোট ৮৫ জন শিক্ষার্থী সক্রিয় রয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের অন্যতম লক্ষ্য হলো হেরাত স্কুলের উস্তাদ কামালউদ্দিন বেহজাদের শৈলীতে ক্ষুদ্রচিত্র শিল্পকে প্রসার করা। তারা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে যৌথ জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে।
শিক্ষার্থী সেতারা বলেন, “অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের শিল্পীরা সুন্দর কাজ সৃষ্টি করছেন। চিত্রাঙ্কন এমন এক কণ্ঠ, যা এখনো শোনা হয়নি।”
শিক্ষার্থী ইয়ালদা আরেফি বলেন, “আমি শিল্প নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট এবং অন্য মেয়েদেরও এটি শেখার জন্য উৎসাহিত করি।”
শিক্ষার্থী এলনাজ রহিমি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প আমাদের আশা দিয়েছে।”
অনেক শিক্ষার্থীর জন্য শিল্প এখন আশার একটি জানালায় পরিণত হয়েছে। তারা বলছে, এটি তাদের একাকীত্ব ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করছে।
শিক্ষার্থী হাদিয়া আফজালি বলেন, “শিল্প উদ্বেগ কমায়, আশা জাগায় এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করে।”
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “শিল্প মানুষের আত্মায় প্রাণ সঞ্চার করে। স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক মেয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য শিল্পকে বেছে নিয়েছে।”
শিক্ষার্থী সোদিনা সাদাত বলেন, “আমরা আমাদের শিল্পের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সৌন্দর্য তুলে ধরতে চাই।”
শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পর এই মেয়েদের অধিকাংশই শিল্পচর্চার দিকে ঝুঁকেছে। বর্তমানে হেরাতে নারীদের জন্য ডজনখানেক শিল্পকেন্দ্র ও কর্মশালা সক্রিয় রয়েছে, যেখানে শত শত মেয়ে শিল্প শিক্ষা গ্রহণ করছে।
সূত্র: তোলো নিউজ











