spot_img
spot_img

হাসিনার আমলে উন্নয়নের নামে দেশকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল: মাহমুদুর রহমান

বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আমলে উন্নয়নের নামে দেশকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্রিজে রেলওয়ে লাইন স্থাপন, কর্ণফুলি টানেল নির্মাণ, গাজীপুর-এয়ারপোর্টে বিআরটিএর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করা হয়েছে। এগুলো হলো উন্নয়নের ফ্যালাসি। বর্তমান সরকারকে এ ধরনের উন্নয়নের ফাঁদে পড়ার দরকার নেই। সরকারের যে কোনো বিনিয়োগের আগে তা থেকে রেট অব রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, সাবেক সচিব ড. শরিফুল আলম, অর্থনীতিবিদ ড. আহমেদ আবদুল কাদের প্রমুখ।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুর রবের সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাজেটের আকার বৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে সরকারের উচিত কোয়ালিটির দিকে তাকানো। জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন প্রকল্পে লিকেজ বন্ধ করা। আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রচুর লিকেজ রয়েছে। সক্ষমতা ছাড়া যদি বাজেটের আকার, এডিপির আকার বাড়ানো হয় তাহলে লিকেজ আরো বাড়বে। বাজেট কিংবা এডিপির আকার বাড়িয়ে সরকার হয়তো বলবে আমাদের সময় এগুলোর আকার বেড়েছে, এটা একটা রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া কিছু নয়।

তিনি বলেন, আমাদের মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে। সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার কমানো সরকারের জন্য একিটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতায় শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষাখাতে দ্রুততার সাথে সংস্কার করতে হবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পাচ্ছে না। কৃষকরা যাতে তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় এবং প্রান্তিক চাষীরা যেন দেউলিয়া হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সরকারের পলিসি থাকতে হবে।

আমার দেশ সম্পাদক বলেন, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতির জন্য মেঘা প্রজেক্ট হয়েছে কিন্তু কর্মসংস্থান হয়নি। কর্মসংস্থান তৈরির কাজ বেসরকারি খাতের, সরকারের কাজ নয়। সরকারি চাকরি দেশের জন্য ভালো খবর নয়। এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়।

দেশের রপ্তানি আয়ে পোশাক খাতের উপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণ, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের জিডিপি, জিডিপির প্রবৃদ্ধিসহ যেসব পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহমুদুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেটা হবে বলে আশা করেছিলাম কিন্তু হয়নি। তবে বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, যাদের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে তাদের উচিত এগুলোর সঠিকতা যাচাই করা।

তিনি আরও বলেন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির ১০ শতাংশ মানুষের হাতে ৫০ শতাংশ সম্পদ। আর নিম্ন আয়ের ৩০ শতাংশ মানুষের হাতে ১০ শতাংশ সম্পদও নেই। সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে না পারলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, অর্থনীতি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আমি কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। সরকারের ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, রপ্তানিব আয় নিম্নগামী। বেকার মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়। ব্যাংকগুলো চলছে না। জোর করে এগুলো চালানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে। সুদ এবং করের উচ্চ হার দিয়ে কোনো ব্যাবসা বাণিজ্য হয় না। কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শিল্পায়ন করতে হবে। কিন্তু গ্যাস না থাকার কারণে কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ