যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে আমেরিকার নতুন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। এ ঘটনায় আমেরিকা-ইরান সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কুয়েত জানায়, দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। তবে কোথায় হামলা হয়েছে বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির সামরিক বাহিনী।
এর আগে আমেরিকার সামরিক বাহিনী ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালায়। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে আমেরিকান বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করা ইরানের একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে আরও একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করেছে আমেরিকা।
ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর মাধ্যমে বন্দর আব্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার কথা স্বীকার করেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হয়।
তেহরান বলেছে, যে বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল, সেটিকে লক্ষ্য করেই তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে ইরান নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি।
অন্যদিকে আমেরিকার সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরান কুয়েতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন একে পারস্য উপসাগরে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতে হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে আমেরিকার হামলার পরপরই ইরানের পাল্টা আঘাতের দাবি এবং কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার ঘটনায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ছাড়তে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। অন্যদিকে তেহরান নিজেদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যাতে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায়।
সপ্তাহের শুরুতেও আমেরিকা দাবি করেছিল, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, মাইন স্থাপনকারী নৌকা এবং আক্রমণকারী ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব হামলাকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করলেও তেহরান একে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হিসেবে দেখছে।
পরিস্থিতি ঘিরে ইরান ও আমেরিকার চলমান আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রশ্নে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান











