ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আঞ্চলিক বৈঠকগুলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব বৈঠক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং কূটনৈতিক আস্থা জোরদারেও সহায়ক হতে পারে।
তিনি বলেন, আফগান জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং অঞ্চলের ভবিষ্যৎ-সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগে অংশ নেওয়ার জন্য আফগানিস্তানের সব আঞ্চলিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করা উচিত।
শনিবার (৬ জুন) তোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আমরা এসব বৈঠকে অংশ নিতে চাই। আমরা চাই, সেখানে যে দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেগুলোতে আফগানিস্তানের অবস্থান বিবেচনায় রাখা হোক। কারণ এতে এ ধরনের বৈঠকের সুফল ও কার্যকারিতা, উভয়ই বাড়তে পারে।”
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই আফগানিস্তানের অংশগ্রহণ ছাড়া আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ফলাফল বয়ে আনতে পারে না।
মন্ত্রণালয়ের পেশাগত বিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল লতিফ নাজারী বলেন, “আমরা বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। আফগানিস্তান ও এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সব বৈঠকে ইমারাতে ইসলামিয়ার একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা উচিত, যাতে আফগানিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা যায়। একই সঙ্গে আফগানিস্তানও আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারে।”
আঞ্চলিক ফোরামগুলোতে আফগানিস্তানের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক দাউদ শিরাজ বলেন, “বৈঠক হয়, কিন্তু আফগানিস্তান থেকে কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এটি অন্যায়। কারণ কোনো উদ্বেগ থাকলে সংলাপ এবং এ ধরনের বৈঠকে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই তা সমাধান করা উচিত।”
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমদজাই বলেন, “ইমারাতে ইসলামিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বৈঠক কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না। কারণ অনেক আঞ্চলিক ইস্যু সরাসরি আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব বিষয়ে আফগানিস্তানের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আলোচনা হওয়া উচিত।”
এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা চলতি বছরের শেষ দিকে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র: তোলো নিউজ











