spot_img
spot_img

বাবার কোলে থাকা তিন বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা করল ইসরাইলি বাহিনী

মধ্য গাজ্জায় বাবা কোলে থাকা তিন বছর বয়সী এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। নিহত শিশুর নাম রাইয়ান আবু আল-আজিন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে দেইর আল-বালাহ গভর্নরেটের ওয়াদি আল-সালকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাইয়ানের মরদেহ আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গুলিতে রাইয়ানের বাবা বাহা আবু আল-আজিনও আহত হয়েছেন। তার পায়ে গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবা ও ছেলে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনের’ বাইরের এলাকা দিয়ে পরিবারের গ্রিনহাউসের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই এলাকা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই।

রাইয়ানের দাদা জাবের আবু আল-আজিন জানান, ঘটনার সময় তিনি পরিবারের খামারের পাশে নিজ বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে বাহা ও তার সঙ্গে হেঁটে যাওয়া আরেক আত্মীয়কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, রাইয়ান নিহত হয়েছে।

আল জাজিরাকে জাবের বলেন, “আমার নাতি রাইয়ান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। গুলিটি তার মাথায় ঢুকে চোখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। যা ঘটেছে, তাতে তার মা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।”

তিনি আরও জানান, তার ছেলে বাহাকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের আগে তাকে সাত ঘণ্টা ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।

জাবের বলেন, “বাহা আবু আল-আজিনের অবস্থা নিয়ে আমরা এখনো গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কয়েক ঘণ্টা রক্তক্ষরণের পরও তার অবস্থা স্থিতিশীল নয়। তার পায়ের অবস্থাও অত্যন্ত গুরুতর।”

এ ঘটনায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। এসব হামলায় প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজ্জায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলোই তথাকথিত ইয়েলো লাইনের কাছে ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ইসরাইল এই রেখা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

জাবের আবু আল-আজিন বলেন, ইয়েলো লাইনের কাছাকাছি বসবাস করায় তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক ছিল।

তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। আমরা সাধারণ বেসামরিক মানুষ এবং কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের সব জমি ইয়েলো লাইনের বাইরে অবস্থিত।”

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ